Main Menu

সৌদি আরবে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আজহা 

মুহাম্মদ ওমর ফারুক,সৌদিআরবঃ 
সৌদিআরবে যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে ঈদু আজহা উদযাপিত ।
১১আগষ্ট রোববার ফজরের নামাজের পর থেকেই ঈদ উল আযহার নামাজ আদায় করবেন আরববাসী। এরপর আল্লাহর নামে পশু কোরবানি দেন।
সুর্যোদয়ের ১৫মিনিট পরেই ঈদের জামায়াত হওয়ায় গভীর রাত থেকেই রাস্তায় ঢল নামে মসজিদ মুখি মুসল্লিদের। ফজরের নামাজের আগেই মক্কা হারাম শরীফ, মদীনা মসজিদে নববীর ভেতর-বাহির পরিপূর্ণ হয়ে জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়।
মক্কা মুকারামা মসজিদুল হারামাইন শরীফ  এবং মদিনার মসজিদে নবাবী  ঈদের বহত্তর জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। পুরুষ এবং মহিলাদের নামাজ আদায়ের ছিলো আলাদা ব্যবস্থা। এছাড়া সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ সহ বিভিন্ন প্রদেশের বড় বড় মসজিদ গুলোতেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদ জামায়াতকে কেন্দ্র করে সৌদি সরকার নেয়া হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিয়মিত সদস্যদের সাথে যুক্ত করা হয় আইনশৃংখলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।
এছাড়াও বিভিন্ন প্রদেশের বড় বড় মসজিদ এবং ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের জামাত।
এ দিকে মুজদালিফায় রাত্রিযাপন করে হাজিরা ইতোমধ্যে রওনা হয়েছেন মিনার উদ্দেশে। মিনায় শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর মারবেন তারা। এখানেই পশু কোরবানি দিয়ে ঈদ উল আযহা উদযাপন করবেন হাজিরা।
সেলাই ছাড়া দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের দরবারে সোমবার নিজেকে সমর্পন করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা বর্ণের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
ইহজগতের সকল ইচ্ছা, চাহিদা আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে পাপমুক্তির প্রার্থনা নিয়ে মুসলমানরা তিন দিকে পাহাড় ঘেরা দুই মাইল দৈর্ঘ্য ও দুই মাইল প্রস্থের আরাফাতের প্রান্তরে ছিলেন দিনভর।
আরাফাতের এই পবিত্র ময়দানে বিদায় হজে ভাষণ দিয়েছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেই ইতিহাসকে ধারণ করে প্রতি বছর আরাফাত ময়দানে হাজির হন লাখো মুসল্লি। সেখানে সারাদিনই অবস্থান করেন এবং খুতবা শুনে পরে মোনাজাতে শরিক হন সবাই।
এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করছেন।
হজের আনুষ্ঠানিকতার মূল অনুষঙ্গ, পবিত্র আরাফাত ময়দানের বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ  মসজিদ মসজিদে নামিরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে শনিবার খুতবা দেন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা বোর্ডের সদস্য এবং খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন হাদিস কমপ্লেক্সের প্রধান শাইখ ড. মোহাম্মদ বিন হাসান আল-শাইখ।
এ দিন জোহরের নামাজের আগে এই খুতবায় আল্লাহর রহমতের প্রতি বারবার গুরুত্ব আরোপ করেন হারামাইন আশ-শরিফাইনের খাদেম সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের এই প্রতিনিধি।
২৮ মিনিটের খুতবা শেষে এ বছর কোনো মোনাজাত করা হয়নি। তবে যে যার মতো করে দোয়া করেছেন যার যার জায়গা থেকে। সে সময় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন অনেকে। হাজিদের  ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ তালবিয়ার ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা আরাফাতের ময়দান।
হজের নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়ে হাজিরা পৌঁছান পরবর্তী গন্তব্য ৫ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফায়। মুজদালিফার খোলা আকাশের নিচে প্রথম রাত্রি যাপন করেছিলেন প্রথম মানব আদম আলাইহিস সালাম এবং হাওয়া আলাইহা সালাম। সৌদি আরব-ঈদ উল আযহা-হজ
আত্ম উপলব্ধির এই জায়গায় মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে সেখানেই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন আল্লাহর এই মেহমানরা। সেখান থেকেই শয়তানকে ছোঁড়ার প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করেন তারা।
ভোরে মুজদালিফায় বালি আর পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে শয়তানকে পাথর ছোড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন মিনার দিকে। তিনদিন মিনায় অবস্থান করে শয়তানকে পর্যায়ক্রমে পাথর ছুড়বেন হাজিরা। এরপর পশু কোরবানি করে পালন করবেন পবিত্র ঈদ উল আজহা।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*