Main Menu

সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে জিডি : কর্মবিরতিতে ইন্টার্র্নি ডাক্তাররা

সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার ধর্ষণ হুমকি ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরীতে সমাধান, এমনটি মানতে রাজি নয় বলেই টানা কর্মবিরতি শুরু করেছে মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তাররা। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন নারী ডাক্তারকে প্রকাশ্য ধর্ষণ, লাশ ফেলে দেয়ার ঘটনায় শনিবার (১১ মে) সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ, ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তাররা। এসব হাসপাতালে কর্মবিরতি চললেও ইমার্জেন্সি সেবা চালু আছে বলে নিশ্চিত করেছেন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের পরিচালক ফেরদৌস হোসেন। এদিকে ইন্টার্ন নারী চিকিৎসক নাজিফা আনজুম নিশাতকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অভিযোগে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা শনিবার দুপুরে কোতোয়ালী থানায়। উইমেন্স মেডিকেল কলেজ পরিচালক ডা. ফেরদৌস হোসেন এ সাধারন ডায়েরী করেন। এব্যাপারে তিনি বলেন, কোন ঘটনা ঘটলে নূন্যতম একটি সাধারন ডায়েরীর মাধ্যমে আইন শৃংখলা বাহিনীকে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে অবগত করা দরকার মনে করে তারা এ ডায়েরী করেছেন। তবে এ ডায়েরী নিয়ে সন্তোষ হয়নি প্রতিবাদী ইর্ন্টান ডাক্তাররা। সেকারনে টানা কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা । এতে চিকিৎসা সেবায় বিরাট ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। নতুন রোগীদের ভর্তি বন্ধ, হাসপাতলে ভর্তি রোগীরা পড়েছেন বিপাকে। ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পেলে জিডি মামলা হিসেবে গৃহিত হবে জানিয়েছেন থানা সূত্র। শনিবার কর্মবিরতি চলাকালে উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তার কলেজের প্রধান ফটকের সামনে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন। এসময় তারা ডাক্তারদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল, ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার হোসেন চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।এছাড়া কতোয়ালী মডেল থানায়্ও তারা অবস্থান করে প্রতিবাদ চালায়। এস সময় নিরাপদ কর্মস্থল এর দাবী সহ ছাত্রলীগ নেতার দৃষ্টাš Íমুলক শাস্তির দাবীতে শ্লোগান দেয়। একাধিক ইন্টার্ন ডাক্তারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক সিলেট ওইমেন্স মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তারকে ধর্ষণ করার হুমকি ও অসদাচরণ করার প্রতিবাদে সকাল থেকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কর্মবিরতি পালন করছেন সিলেটের সকল মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তাররা। প্রতিটি কলেজের কিছু ইন্টার্ন ডাক্তার উইমেন্স মেডিকেল কলেজে এসে তাদের এই প্রতিবাদে সংহতি প্রকাশ করছেন। এ ব্যাপারে দফায় দফায় বৈঠক করছে প্রতিবাদীরা। তবে তাদের প্রতিবাদ অবস্থান দমাতে ব্যবসায়ীক স্বার্থে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের চাপ ও রাজনীতিক চাপ চালানো হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। আড়ালে ইর্ন্টান ডাক্তারদের ব্যক্তিগত ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গেল বৃহস্পতিবার বিকেলে ১০/১৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মিলে পেটের পীড়ায় ভোগা এক কর্মীকে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রোগীর সাথে একজন থেকে বাকিদের বাইরে যেতে বলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ নিয়ে বাদানুবাদে চিকিৎসদের ওপর চড়াও হন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সারোয়ার হোসেন ছোরা বের করে ইন্টার্ন চিকিৎসক নাজিফা আনজুম নিশাতকে ছুরিকাঘাত ও ধর্ষণের হুমকি দেন। নিশাত নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি উল্লেখ করে পোস্ট দেন। এরপর শুরু হয় তোলপাড়।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*