Main Menu

সমিতির নির্বাচন নিয়ে বদরখালীবাসির কাছে খোলা চিঠি

সুপ্রিয় বদরখালীবাসি,
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আশা করি আপনার মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতে ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। প্রথমে বলে রাখছি, আমি খুবই গর্বিত। কারণ বাংলাদেশের একটি প্রদেশ নামে খ্যাত বদর আউলিয়ার পূণ্যভূমি বদরখালীতে আমার জন্ম। আমি আরো গর্বিত, কারণ দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সমবায় সমিতির আমি একজন অংশীদার। আমার/আমাদের বাপ-দাদার হাতে গড়া এই সমিতি আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

শুরুতে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, সমিতির ঐ সকল সভ্য-পোষ্যদের, যারা পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পরলোক গমন করেছেন। বর্তমানে যারা জীবিত রয়েছেন তাদের জন্য দোয়া ও শুভ কামনা রইল। মূলকথা শুরু করার পূর্বে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এই জন্য যে, আমার কথার সাথে কারো চরিত্র যদি মিলে যায় তাহলে দুঃখিত! আমার কিছুই করার নেই। আমার খোলা চিঠিটা মূলত সমিতির সভ্যদের উদ্দেশ্যে। তাই পোষ্যরা নারাজ হবেন না, বরং আমার কথার সাথে তাল মিলানোর চেষ্ঠা করবেন।

প্রিয় এলাকাবাসি,
বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি আমাদের একটি পবিত্র ও প্রাণের সংগঠন। এই সমিতির ঐতিহ্য ধরে রাখা আমাদের সবচেয়ে বড় কর্তব্য। কে কি বলেছে-বলবে সেটা বড় কথা নয়, বরং আমাদের কর্তব্য যথাযথ পালন করতে পেরেছি কি কিনা সেটাই বড় কথা। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যাঁরা এই সমিতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন, সবাই আমাদের আপনজন। বাহির থেকে এসে কেউ এই সমিতির দায়িত্বশীল হন নি। অতীতে যারা সমিতির দায়িত্ব পালন করেছেন, সবাই একেক জন যোগ্য ব্যক্তি। তবে হ্যাঁ, সময়ের ব্যবধানে ও রাজনৈতিক পেক্ষাপটে কেউ কেউ সমিতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। তারপরও কোনো দায়িত্বশীল এই প্রিয় সমিতি ছেড়ে পালিয়ে যাননি। যার যতটুকু যোগ্যতা, ততটুকু দিয়ে এগিয়ে নিয়েছেন ্এই সমিতির কর্মকান্ডকে। সেই জন্য সাবেক দায়িত্বশীলদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

প্রিয় সভ্যগণ,
আপনারা অবশ্যই অবগত আছেন যে, প্রতি তিন বছর পর পর এই সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তার ধারাবাহিকতায় অল্প কয়েক ঘণ্টা পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। উক্ত নির্বাচনে ১২ টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৪ জন প্রার্থী। এইসব প্রার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন ১২ জন। সমিতির ১৫০০ সভ্য তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রয়োগ করবেন। এই সমিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো সম্পাদকের। সম্পাদক পদে তিনজন প্রাথী হলেও খান জয়নাল নিজেই সম্পাদক প্রার্থী থেকে সরে দাঁড়ালেন। এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুই জনের মধ্যে। নির্বাচনে যিনি জয়যুক্ত হবেন তাঁকে অগ্রিম অভিনন্দন। তবে, সভ্যদের/ভোটাদের কাছে আমার ২/১টি কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি।

সম্মানিত ভোটারগণ!
ভোট আপনার পবিত্র আমানত। যাকে খুশি তাকে ভোট দেয়া আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার। আপনার অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করা মারাত্মক অন্যায়। তাই ছোট গালে বড় কথা বলতে চাই না। শুধু এইটুকু বলবো- বাপজান/চাচাজান/ভাইজান/আত্মীয়জান, আমাদের পবিত্র সমিতিকে টাকার কাছে বিক্রি করবেন না। ভোটের সময় অতীতে অবৈধ টাকার লেনদেন হয়েছে তা মিথ্যা নয়। অতীতের কথা বাদ দিলাম। কিন্তু বর্তমানেও শোনা যাচ্ছে- দেখা যাচ্ছে অবৈধ টাকার কাছে ভোটাররা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে (প্রমাণিত)। এটা কিন্তু আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আমি নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না, কারণ আমিও বদরখালীর সন্তান। শুধুমাত্র সতর্ক হওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। সমিতির ঐতিহ্য ধরে রাখা আপনাদের/আমাদের দায়িত্ব। কোনো অবস্থাতেই এই সমিতির মান ক্ষুন্ন হোক, সেটি আমি চাই না। ভোটারদের কাছে অনুরোধ, এখনই সিদ্ধান্ত নিন- টাকা দিয়ে ভোট দেব না। যোগ্য ও শিক্ষিত প্রার্থী দেখে ভোট দেব। টাকা যেই দেবে তাকেই ভোটের মাধ্যমে প্রতিহত করবো। অশিক্ষিত কাউকে শিক্ষিত চেয়ারে বসার সুযোগ দিবেন না। অতীতে সমিতির উন্নয়নে যারা ভূমিকা রেখেছে তাদেরকে ভোট দেয়ার অনুরোধ রইল।

প্রিয় পোষ্যগণ,
বদরখালী সমিতির আগামীর কর্ণধার হলেন আপনারা। সভ্যদের উপর সবকিছু ছেড়ে দিলে চলবে না। ওদের দোষ-দ্রুটি ধরে দেয়ার দায়িত্ব আপনাদের। এই সমিতির মান নষ্ট হলে, সভ্য-পোষ্য সবারই একসাথে মাথাব্যথা শুরু হবে। মাথাব্যথা হওয়ার আগে সাবধান না হলে মাথা কেটে ফেলা ছাড়া উপায় থাকবে না। তাই আজই সিদ্ধান্ত নিন- অন্যায় যে করবে তাকে প্রতিহত করবো। অবৈধ টাকা যে দিবে তাকে ভোট না দিতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেব। অবৈধ টাকা যারা লেনদেন করবে তাদেরকে চিহ্নিত করবো। আর যোগ্য ও শিক্ষিত লোককে ভোট দিতে অভিভাবকদের উৎসাহিত করবো। অশিক্ষিত লোককে শিক্ষিত চেয়ারে বসার সুযোগ না দিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবো। অতীতে সমিতির উন্নয়নে যারা ভূমিকা রেখেছে তাদেরকে ভোট দেয়ার জন্য অনুরোধ করবো।

সম্মানিত প্রার্থীগণ!
আপনারা একেক জন একেক দিকে যোগ্য। এই ঐতিহ্যগত সমিতির সভ্য আপনারা। যাঁদের বিনিময়ে আপনারা এই সমিতির সভ্য হতে পেরেছেন, ঐসকল পিতা-মাতার/মুরব্বিদের কথা কী আপনার মনে আছে? ওদের নীতি-আদর্শের কথা কী আপনাদের মনে আছে? ওদের রেখে যাওয়া আমানত আপনারা কতটুকু রক্ষা করেছেন? ওনাদের সময়ে তো এই সমিতির নির্বাচন হয়েছিল, তখন কি অবৈধ টাকার বিনিময়ে ভোট নিয়েছিলেন? আপনারা “না” ছাড়া কোন উত্তর দিতে পারবেন না (২/১ জন ব্যতিত)। যাক, আপনাদেরকে পরামর্শ দেয়া আমার পক্ষে উচিত নই। তারপরও সমিতিরি সুনাম ধরে রাখার জন্য আপনাদের উপর আমার প্রশ্নগুলো চাপিয়ে দিলাম। প্রশ্নগুলো গ্রহণযোগ্য হলে হৃদয়ে রাখবেন, না হয় পাশের নদীতে ছুঁড়ে মারবেন। আর দয়াকরে অবৈধ টাকার বিনিময়ে কারো কাছে ভোট ভিক্ষা করবেন না। এটা থেকে বের হয়ে আসুন। সমিতির নিয়ম অনুসারে আপনারা যেহেতু প্রার্থী হয়েছেন, সেহেতু জয়-পরাজয় মেনে নেয়ার মন মানসিকতা আপনাদের রয়েছে। যাঁরা নির্বাচনে বিজয়ী হবেন- তাঁদের প্রথম কাজ হবে এই সমিতির ঐতিহ্য অটুট রাখা। তারপর ধাপে ধাপে অবশিষ্ট কাজগুলো চালিয়ে যাওয়া। দয়াকরে আমাদের সমিতিকে রাজনীতির অফিস বানাবেন না। সমিতিকে সমিতির জায়গায় রাখবেন। তাহলে আমরা আপনাদের সাথেই আছি।

শেষকথা: ৫০ হাজার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে ১৫০০ ভোটার। বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির অগ্রযাত্রা শুভ হোক, সফল হোক। আসুন, ন্যায়ের পথে থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। যোগ্য ও শিক্ষিত লোকদেরকে দায়িত্বশীল বানানোর চেষ্ঠা করি। সুখে থাকুন, শান্তিতে থাকুন এই কামনা করে শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।

                                  ইতি
বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি একজন অংশিদার
এম, রিদুয়ানুল হক (বিএ;বিএড;এমএ)
শিক্ষক, সাংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*