Main Menu

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত অত্যন্ত বিপজ্জনক সময়

বিবিসিএকাত্তর ডেস্ক:
১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ বাংলাদেশ অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পরিচালক এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত ‘অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল সময়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক বলেন, ‘আমরা দেখেছি ঘূর্ণিঝড়টি ৩ মে (শুক্রবার) বেলা ১২টার দিকে খুলনা অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন লেভেলের বাতাসের সংস্পর্শে আসতে শুরু করবে। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ খুলনা অঞ্চল ও বাংলাদশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় এসে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় থাকবে। এই সময়টা আমাদের জন্য “অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল সময়”।’

তিনি বলেন, ‘এই সময়ে যারা উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করেন তারা দমকা বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসের সম্মুখীন হবেন। এই সময়ে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে। নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।’

ঘূর্ণিঝড়টি এখনও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে অগ্রসর হতে হতে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫০ কিলোমিটারের মধ্যে এসেছে। এটি ভারতের উপকূল স্পর্শ করে করে অগ্রসর হচ্ছে। অগ্রসর হয়ে হয়ে খুলনা উপকূল দিয়ে বাংলাদেশের উপকূল স্পর্শ করবে বলেও জানান তিনি।

শামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটি সাগরে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই অবস্থান করছে। কারণ বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এটি একটি অত্যন্ত প্রবল ঘূর্ণিঝড়। আমাদের যে বিশ্লেষণ সেই অনুযায়ী দেখতে পাচ্ছি, এটি যখন বাংলাদেশে থাকবে তখন হয়তো ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস থাকবে না। দুর্বল হয়ে হয়ে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। সেটিও আমাদের জন্য একটি আশঙ্কার বিষয়। এজন্য সব ধরনের যোগাযোগ ও প্রস্তুতি রাখাটা আমি সঠিক মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ অব্যাহত রাখার জন্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা থাকতে হবে। আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটে বেলা ১১ থেকে ১২টার মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার লোক একই সঙ্গে হিট করেছে, এজন্য এটি হ্যাং হয়ে গেছে। এর ক্যাপাসিটি থাকা উচিত ছিল ৫ থেকে ৭ লাখ, কিন্তু সেটি নেই।’

‘আবহাওয়া অধিদফতরের বিদ্যুৎ এক সেকেন্ডও বন্ধ থাকতে পারবে না। এরপর আমার ইন্টারনেটের ওঠানামা হতে পারবে না। তা নাহলে আমি অ্যানালাইসিস করতে ব্যর্থ হব। ডাটা ডাউনলোড করতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য পেলে মানুষ নিজেকে নিরাপদ রাখার একটি ব্যবস্থা নিজে করতে পারবেন।’

সবকিছু মিলিয়ে মহাবিপদ সংকেত দেয়ার সময় এখনও এসেছে কিনা-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক বলেন, ‘মহাবিপদ সংকেত দেয়ার এখনও উপযুক্ত সময় হয়নি। এটা আমরা কালকের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘কতগুলো ধাপ আছে, আমরা হুঁশিয়ারি দেই, লিড টাইমটা দেয়া হয় ২৪ ঘণ্টা আগে। আমরা বিপদ সংকেত দেই ১৮ ঘণ্টা আগে। প্রস্তুতির সুবিধার্থে বিপদ সংকেতটা আমরা আগে দিয়েছি। মহাবিপদের যে ল্যান্ডফল, এর ১০ ঘণ্টা আগে আমরা দিতে পারব। সেই সময়টা এখনও আসেনি। আমরা আজকের রাত ও কালকের সকালটা পর্যবেক্ষণের জন্য রেখেছি। আমরা দেখব দিক পরিবর্তন হয়েছে কিনা এবং এর ইন্টেনসিটি (শক্তি) আগের মতো আছে কিনা। এই দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে আমাদের মহাবিপদ সংকেতে যেতে হবে। আর যদি না হয়, তাহলে বর্তমান ধারায় যেভাবে চলছে তাতে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতেই আমাদের কাজটা হয়ে যাবে।’






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*