Main Menu

মৃত্যু পৃথিবীর সব সৃষ্টির শেষ পরিণতি

ইসলামী ডেস্কঃ
মানুষ তার চিরন্তন হিসেবে জীবনের সুখ-শান্তি, চাওয়া-পাওয়া, কাজ-কর্ম সংশোধন করার প্রয়াস চালায়। এরই প্রেক্ষিতে দুনিয়ার বিষয়াদির সঙ্গে সে তার পরকালীন বিষয়গুলোকেও সংশোধন করে নেয়। যারা সময় থাকতে পরকালের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়- তাদেরকে আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে কল্যাণ দেন, আখেরাতেও কল্যাণ দেন। জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করেন।

আর কিছু লোক শুধু দুনিয়ার জন্য পরিশ্রম করে সে আখেরাতের বিষয়ে থাকে পূর্ণ গাফেল। এমন মনোভাব তার ভাগ্যকে নষ্ট করে দেয়। তারা শুধু ভোগবিলাসিতায় মত্ত থাকে। জাহান্নাম এমন লোকদের ঠিকানা। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি কাজ ও চিন্তার একটি নির্ধারিত পরিসমাপ্তি আছে। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকের কাছেই শেষ গন্তব্য।’ -সূরা নাজম: ৪২

মৃত্যু পৃথিবীর সব সৃষ্টির শেষ পরিণতি। মৃত্যু এ দুনিয়ার সব জীবের পরিসমাপ্তি। আল্লাহতায়ালা মৃত্যুকে অবধারিত করে দিয়েছেন। মৃত্যু আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ন্যায়বিচার। সব সৃষ্টি এখানে সমান। এ বিষয়ে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রতিটি প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদনকারী। অতঃপর আমার দিকেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’ -সূরা আনকাবুত: ৫৭

জীবন ও মৃত্যুর ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহতায়ালার হাতে। কোনো প্রহরী, কোনো রক্ষী মৃত্যুকে ঠেকাতে পারে না। সম্পদ, সন্তান, সাথী-সঙ্গী কিছুই কাজে আসবে না। মৃত্যুর হাত থেকে ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, উচ্চ-নীচ কেউই রেহাই পায় না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা যেখানেই থাক মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, যদি তোমরা শক্তিশালী দুর্গেও থাক।’ -সূরা নিসা: ৭৮

মরণ নির্ধারিত সময়ে হঠাৎ করে এসে পড়বে। তাই মুমিন-মুসলমানরা মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকেন। মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে সীমা লঙ্ঘন থেকে বিরত রাখে। বলা হয়েছে, যদি মানুষের জীবনে তিনটি বিপদ না থাকতো, তাহলে সে কখনও বিনয়ী কিংবা নত হতো না। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে- অসুখ কিংবা রোগ-বালাই, অভাব-অনটন। আর এ দু’টি বিপদ সত্ত্বেও মানুষ সীমা লঙ্ঘনের দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু মৃত্যুর কথা স্মরণ করলে মানুষের দৃষ্টিতে পৃথিবী তুচ্ছ হয়ে যায়, তখন সে সীমা লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকে।

আলেমরা বলেন, মানুষের চোখের সামনে যখন মৃত্যু ভাসমান হবে, তখন সে আল্লাহর নেয়ামতসমূহকে ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারবে। যে ব্যক্তি মৃত্যুকে স্মরণ করে তার হৃদয় কোমল হয়। তার কাজ ও অবস্থা সৎ হয়। গোনাহ করার সাহস করে না। ফরজগুলো নষ্ট করে না। পৃথিবীর চাকচিক্য ও জৌলুস তাকে ধোঁকায় ফেলে না। সে তার রবের ও সুখময় জান্নাতের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

আর যে ব্যক্তি মৃত্যুর কথা ভুলে থাকে তার হৃদয় নির্মম ও পাষাণ হয়ে যায়। সে দুনিয়ার মোহে পড়ে। তার আমল-আখলাক খারাপ হয়। আশা দীর্ঘায়িত হয়। তাই মৃত্যুকে স্মরণ করা অনেক বড় উপদেশবার্তা। হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ৫টি জিনিস তোমার জীবনে আসার আগে ৫টি জিনিসের মূল্যয়ন করবে। যথা- যৌবনকে বৃদ্ধকাল আসার পূর্বে, সচ্ছ্বলতাকে অভাব আসার আগে, সুসময়কে দুঃসময়ের আগে, সুস্থতাকে অসুস্থতার আগে, জীবনকে মৃত্যু আসার আগে।

মৃত্যুর প্রস্তুতির ভেতরেই নিহিত আছে প্রকৃত সৌভাগ্য, অপার সুযোগ ও চূড়ান্ত সফলতা। কেননা, মৃত্যু জান্নাতের অথবা জাহান্নামের সর্বপ্রথম ধাপ। মৃত্যুর প্রস্তুতি হিসেবে শরিয়তের বিধিবিধান ও ফরজগুলো সর্বাগ্রে সংরক্ষণ করতে হবে। কবিরা গোনাহ ও বিভিন্ন পাপ থেকে বিরত থাকতে হবে। সৃষ্টজীবের যাবতীয় হক আদায় করতে হবে। এক কথায়, যে কোনো সময় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা চাই। কল্যাণের সঙ্গে জীবনাবসান হওয়াই মৃত্যুবরণকারীর জন্য সৌভাগ্য।

হাদিসে আছে, ‘আমলগুলো শেষ পরিণতি অনুসারেই বিবেচিত হবে।’ হজরত মুআজ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ বলেন, যার শেষ কথা হবে- ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ সে জান্নাতে যাবে।’ -আবু দাউদ

মাহমুদা নওরিন, অতিথি লেখক






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*