Main Menu

মুসলিম উম্মাহর বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: বিচারপতি আব্দুর রউফ

বিবিসি একাত্তর রিপোর্ট: সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুল রউফ বলেন, মানুষের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ট আর এ সৃষ্টি জগতে নাই অথচ বিশ্বের  মানুষ বুঝতেই চাচ্ছে না মানুষ হিসেবে সৃষ্টিজগতে তার অবস্থান কি? আজ ইসলামকে এন্টি রিলিজিয়ন থিসিস ভাবছেন অনেকেই, কেন? ইসলাম সার্বজনীন, সব ধর্ম বর্ণ মানুষ, জীবকে নিয়েই ইসলাম। কোনো কিছুই এর বাইরে নয়। আর কোরআন জীবন্ত, কোরআন কথা বলে। প্রশ্ন করলে উত্তরও দেয়। পৃথিবীর সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে কোরআনেই। পৃথিবীর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানুষ রাসুল (সা:)। আজ মুসলমানদের দেউলিয়াত্বের কারন কোরআন ও রাসুলের পথ থেকে সরে আসা। মুসলিম উম্মাহর বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে তাওহিদের একাত্মবাদকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় সিরাত উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিশ্ব সংকট নিরসনে মহানবীর (সা:) এর আদর্শ’ শীর্ষক সীরাতুন্নবী (সা:) জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মাওলানা আবু তাহের জিহাদী’র সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুল মা’বুদ।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য প্রদান করেন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ড. প্রফেসর চৌধুরী মাহমুদুল হাসান, মানারাত ইন্টাঃ ইউনিভার্সিটির সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম উমার আলী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দীন কাদেরী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদ ও সাবেক চেয়ারম্যান দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের সাবেক ডীন আবুল কালাম পাটোয়ারী, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লাস ও সিরামিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, পীর সাহেব ফুরফুরা দরবার শরীফ শায়খ আবদুল কাইয়ুম, ইসলামী ঐক্যজোটের আমীর আব্দুল লতিফ নেজামী, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেন, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ কমিটির আহবায়ক মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, পীরসাহের টেকেরহাট মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, ছারসীনার পীর সাহেব শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, খেলাফত রব্বানীর আমীর মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মজিবুর রহমান হামেদী, মাওলানা যাইনুল আবেদীন, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা অধ্যক্ষ শায়খ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনের আমীর মুফতি ফখরুল ইসলাম, পীর সাহেব মীরের সরাই মাওলানা আবদুল মোমেন নাসেরী, মুসলিম ঐক্যপরিষদের সভাপতি মুফতি আজিজুর রহমান আজিজ, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারী ড. খলিলুর রহমান মাদানী, বাংলাদেশ ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাফেজ লুৎফুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি এনামুল হক, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মুফতি আবু ইউসুফ খান, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ইমাম পরিষদের সভাপতি মুফতি মাসুদুর রহমান, আন নাহদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

বিচারপতি আব্দুল রউফ আরও বলেন, মানুষ সৃষ্টির সেরা মাখলুকাত সেটা বোঝার উপায় কি? মানুষকে দেয়া হয়েছে বিশেষ জ্ঞান। আর ওই জ্ঞানে মানুষই সৃষ্টি নিয়ে কাজ করবেন, স্রষ্টাকে খুঁজবেন। সৃষ্টিকে জানলে স্রষ্টাকে জানা যাবে। ইসলাম সেই কথাটিই বলে। মুসলিমরা আল্লাহ’র সৃষ্টিকে নিয়ে যতোক্ষণ কাজ করেছে ততোক্ষণ তাদের কেউ হারাতে পারে নি। ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে কোনো সংকীর্ণতা নাই। তাহলে মুসলমানদের কাজ কি? মুসলমানরা হবে সারা বিশ্বের কাজের সাক্ষী। মুসলমানরা হলো আদর্শ। মুসলমানরা কারো সম্পদ হরণ করতে পারে না, খারাপ কিছু করতে পারে না। অথচ সঠিক পথ ভুলে আজ বিশ্বে মুসলমানরাই দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। এ থেকে বাঁচতে আমাদেরকে রাসূলের আদর্শ অনুস্বরণ করতে হবে।

প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদুল হাসান বলেন, পৃথিবীতে শ্রেষ্ট জীব হচ্ছে মানুষ। সেই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ট মানব হযরত মোহাম্মদ (সা:)। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাইলে আগে মুহাম্মদ(সা:) ভালবাসতে হবে। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। রাষ্ট্রব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতি সাংস্কৃতি সবকিছুর ইসলামে রয়েছে, যা রাসুল (সা:) দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষের মুক্তির পথ সিরাতের পথ, যে পথে শান্তি আসবেই।

আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, মতনৈক্য থাকতেই পারে। কিন্তু মুসলিম উম্মাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এক প্লাটফর্মে আসতে হবে। মানবতার দোহাই দিয়ে পৃথিবীতে যারা অশান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে জবাব দিতে পারে তারাই যারা ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা ও মোহাম্মদ (সা:) কে নেতা মেনে তার আদর্শ ব্যাক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করতে চায়।

অন্যান্য বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ইসলাম একটি নিছক ধর্মের নাম নয়, ইসলাম এটি পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান। ইসলামের কথা বললেই জঙ্গি সন্ত্রাসী যারা আখ্যা দেয় তাদের কাছেও বারবার ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যেতে হবে। ইসলাম ছাড়া শান্তি আসবে না এটা স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরতে হবে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে? আজ কোর্টে মামলা হচ্ছে, মামলায় মেয়ের অভিযোগ সে পিতার কাছে নিরাপদ না। আমাদের এখন বাস্তবতার নিরীখে সমাজের রূপরেখা তৈরি করতে হবে। আর সেটা রাসুল (সা:) এর আদর্শে। এর বাইরে আর কারো আদর্শ গ্রহণযোগ্য নয়। মোহাম্মদ (সা:) শুধু একজন ধর্মীয় মানব নন, তিনি মহামানব, তিনি নেতা, তিনি বিচারক, কূটনৈতিক, শাসক, চিকিৎসক, স্বামী, বাবা, সেনাপতি, কৃষক হিসেবেও সর্বোৎকৃষ্ট অনুসরনীয়। রাসুলের দেখানো পথেই তার আদর্শে রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। জাহেলিয়াত দূর করতে হলে বিতর্ক না করে একামতে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠা চালাতে হবে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*