Main Menu

মানবতা আজ ভিক্ষুকের হাতে কেন?

এম, রিদুয়ানুল হক
মানবতা শব্দটির সাথে আমার খুব বেশি সম্পর্ক। কারণ হলো ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত বেশকিছু মানবতার সংগঠনের সাথে আমি সরাসরি জড়িত। হয়তঃ ভবিষ্যতে আরো কিছু সংগঠনের সাথে যুক্ত হতে পারবো। তবে আমার জীবনে মানবতা খুব বেশি চমক দিখিয়েছে বলে তেমন মনে পড়ছে না। তারপরও শতভাগ আশা নিয়ে বেঁচে আছি। বর্তমানে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে হাজার হাজার সংগঠন বা সংঘ। এইসব সংগঠন নিজের উদ্যোগে মানবতার কাজে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এইসব সংগঠনকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধনী লোকেরা তেমন একটি ভালো চোখে দেখে না। কারণ ভালো চোখে দেখলে হয়তঃ পকেট থেকে কিছু ব্যয় করতে হবে। আবার বিভিন্ন জায়গায় ঐসব সংগঠনের বিষয়ে মারাত্মক নেগেটিভ মন্তব্য করে বেড়ায় কিছু মানব। যা মোটেও কাম্য নয়।

সম্প্রতি ফেসবুকে অপরিচিত একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, যা আমার মতো সামান্য একজন মানবের হৃদয়ে ধাক্কা দিয়েছে। ছবির দৃশ্যটি হলো- একজন দাঁড়ানো ভিক্ষুক, আরেকজন শুয়ে থাকা ভিক্ষুককে মানবতা নামক সামান্য কিছু উপহার দিচ্ছে। ছবিটির দিকে লক্ষ্য করলে হয়তঃ মানবতার উদাহরণ খুঁজে পাবেন। যে উপহার নামক মানবতাটি ধনীদের হাতে মাননসই, সেই মানবতা আজ ভিক্ষুকের হাতে। হয়তঃ তাদের কাছ থেকেই আমাদের মানবতার জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

সারা বিশ্বে আজ মানবতা বিলুপ্ত। চলছে অমানবতা। এমনকি মানবাধিকার নামক সংস্থার কাছেও এই মানবতা বিলুপ্ত প্রায়ই।
এই পরিস্থিতিতে কীভাবে আমরা খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি, চাকরি-বাকরি করছি, উৎসব পালন করছি, আনন্দ উল্লাস করছি, স্বাভাবিক সব কাজ করছি। মসজিদ ভর্তি করে নামাজ পড়ছি, আমাদের এই এবাদত কি স্রষ্টার দরবারে কবুল হচ্ছে? আজ কোথায় আমাদের ধর্ম? কোথায় আমাদের মানবতা? যার ভেতর মানবতা আছে সেই হলো প্রকৃত ধার্মিক। মানবতাহীন ধর্ম শেকড় বিহীন বৃক্ষের মতো, যা কখনোই কোনো ফল দেবেনা। যেখানে বলা হয় জীবে দয়া করে যেজন সেজন সেবিছে ঈশ্বর, সেখানে আজ স্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানুষকে মাঝ সমুদ্রে ঠেলে দেয়া হচ্ছে মৃত্যুর জন্য। তারা বাঁচার জন্য যতই তীরে ভিড়তে চাচ্ছে তাদেরকে শেয়াল কুকুরের মতো বন্দুকের ভয় দেখিয়ে আবার সমুদ্রে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এটা কোনো সভ্যতা? এ কোন সভ্যতায় আমরা বাস করছি?

আইয়্যামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগে নাকি মেয়ে শিশুদের জীবন্ত কবর দেয়া হতো, এখনতো সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার আগেই তাকে জোরপূর্বক ভূমিষ্ঠ করিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, বস্ত্রহীন, বাসস্থানহীন মানুষগুলোকে শেয়াল কুকুরের মতো বিতাড়িত করা হচ্ছে, পিপাসা নিবারণের জন্য নিজের মূত্র পানে বাধ্য করা হচ্ছে, এ কোন জাহেলিয়াতের সমাজে আমরা আছি? আসমান জমিন সবইতো এক আল্লাহর সৃষ্টি। তাঁর এত বড় দুনিয়াতে এই অসহায় মানুষদের কি কোনো ঠাঁই নেই? আমাদের চোখের সামনে এভাবে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, নিষ্পাপ শিশুরা ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে? আর আমরা যার যার উপাসনালয়ে ঢুকে স্রষ্টার সান্নিধ্য পাবার আশা করতে থাকব? স্রষ্টার সৃষ্টি জীবকে ক্ষুধার্ত, পিপাসার্ত রেখে আমারা কিভাবে তাঁর ভালোবাসা পাবার আশা করছি। মানবতার কল্যাণের জন্য মানুষ সৃষ্টি, মানব ধর্মই প্রকৃত ধর্ম, প্রকৃত এবাদত। যে বা যাদের মধ্যে মানবধর্ম যত বেশি থাকবে সে বা তারা তত বেশি ধার্মিক। তাই আমাদের এখন সবচেয়ে বড় এবাদত হলো সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং এমন একটি সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা যেন এমন অবিচার আর না হয়। এর চাইতে বড় ধর্ম, বড় এবাদত আর কিছুই হতে পারেনা।

এখন আমার প্রশ্ন- মানবতার মানব কোথায় লুকিয়ে আছে? জনসম্মুখে বের হচ্ছে না কেন? না, হবে না। কারণ মানবতায় কোনো লাভ নেই! বর্তমানে মানবতা একটি জায়গায় পরিলক্ষিত হচ্ছে বেশি। সেটি হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। এক টাকা দান করলে শতাধিক ছবি ফেসবুকে বিলিয়ে দেয়। এসব ছবি দেখে আমার মতো মূর্খ মানবেরা না হেসে পারে না। এছাড়া আরো কত যে ছবি ভাইরাসের মতো মানবতাকে কলুষিত করছে তা কিন্তু সবার জানা। বর্তমানে ছবি তুলতে ফটোগ্রাফারের প্রয়োজন হয় না, নিজেই সেলফি দিয়েই নিজের ঢোল নিজেই বাজিয়ে মানবতার চিত্র জনসম্মুখে প্রচার করছে। মনে রাখবেন- এটা মানবতা নয়। এটি আর্সেনিকযুক্ত ভাইরাস। এই অভ্যাস থেকে আমরা ফিরিয়ে আসতে পারলেই আসল মানবতা মুক্তি পাবে। না হয় নিকট ভবিষ্যতে মানবতা সম্পূর্ণ হারিয়ে যাবে। তখন মানবতার স্বপ্ন আর কখনো মানবের হৃদয়কে নাড়া দিবে না।

ছবিটির দিকে একটি বার লক্ষ্য করে দেখুন, আপনার বিবেক ক্ষেঁপে উঠবে। আপনার আত্মীয়-স্বজনের অন্তর ক্ষেঁপে উঠবে। কারণ যে মানবতা আপনার-আমার হাতে থাকার কথা, আজ সেটি ভিক্ষুকের হাতে। হে ভাই, আসুন না! মানবতার সঠিক দায়িত্ব আমাদের কাঁধে তুলে নিতে চেষ্টা করি। আমরা পারবো, অবশ্যই পারবো।
—- খোদা হাফেজ

শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*