Main Menu

মাছ চাষ করে সফলতা

গুরুদাসপুর(নাটোর)প্রতিনিধি.
পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই- এ কথাটি বেশ আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গেই বললেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মহারাজপুর গ্রামের জাকির হোসেন ও তার ৬ বন্ধু। নিষ্ঠা, সততা ও পরিশ্রমের ফলে অল্প সময়ের মধ্যে তারা মাছ চাষ করে জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। অর্জন করেছেন অভাবনীয় সাফল্য। রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে সেরা মৎস চাষী পুরষ্কার। আবেদন করিয়েছেন এবার জাতীয় পুরষ্কারেও।

উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য শুরু করেন মাছ চাষ। ২০১৮ সালে মাত্র ২ লাখ টাকা পুঁজিসহ ৩টি পুকুর লিজ নিয়ে শুরু হয় তাদের পথচলা। এর পর তাদের আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ব্যবসায়িকভাবে তারা এখন নাটোরের বড় ব্যবসায়ীদের তালিকায়।

গতকাল শুক্রবার সরজমিন তাদের মৎস্য খামারে গিয়ে দেখা যায়, তারা পুকুরে মাছের খাবার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সাত বন্ধু জাকির হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, রিয়াজুল ইসলাম, বুলবুল, ইসমাইল হোসেন জানান, প্রথমে ৩০ বিঘার ৩টি পুকুর ছিলো। এখন বর্তমানে আমাদের মোট ১০০ বিঘার ১৫টি পুকুর রয়েছে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়। রুই, কাতলা, মৃগেল, জাপানি, তেলাপিয়া, দেশি মাগুর, শিং, চিতল, পাঙাশ, টেংড়াসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করে পুকুরে চাষ করে বড় করা হয়। এসব মাছ চাষে পুকুরে প্রতিদিন নিয়মিত খাবার দিতে হয়। প্রতি বছর মার্চ মাসের শুরুতে পুকুরে মাছের পোনা ছেড়ে দেয়ার পর ১০ মাস ধরে মাছগুলো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে বড় করে ডিসেম্বর মাস থেকে দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে ট্রাকযোগে বিক্রি করা হয়।

তারা আরও জানান তাদের পুকুরে প্রতিবছর এক হেক্টরে ১২.৯ টন মাছ উৎপাদন হয়। মাছ চাষ করে একদিকে তারা যেমন নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। অপরদিকে তাদের এই সফলতা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর কবির জানান, তারা মাছ চাষে সফলতা অর্জন করেছে। ২০১৯ সালে সেরা মৎস চাষী হিসেবে পুরষ্কার পেয়েছেন জাকির হোসেন। প্রতি বছর তাদের এক হেক্টরে ১২.৯ টন মাছ উৎপাদন হয়। এ বছর জাতীয় পুরষ্কার নেওয়ার জন্য জাকির হোসেন আবেদন করেছেন। সরকারী ভাবে তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়।#






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*