Main Menu

ভালোর কোনো লেশ নেই মন্দে মন্দে ভরে গেছে সমাজজীবন

সাইফুল ইসলাম বাবুলঃ

চারিত্রিকভাবে মানুষ এখন পশুর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, স্বার্থের জন্য মানুষ এমন জঘন্য কাজ নেই যা করতে পারেনা। আর ভোগ বিলাশের জন্য যতো নিচে নামার সে নামতে প্রস্তুত। মানুষ আজ আত্মা ভুলে দেহসর্বস্ব প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। অন্যায় অপরাধ যেনো ন্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের অবস্থা এখন এমন যে, এই সমাজে মা তার সন্তানকে হত্যা করছে সন্তান তার পিতা-মাতাকে হত্যা করছে। তিন বছরের শিশু ধর্ষিতা হচ্ছে, শিক্ষকরে কাছে ছাত্রীর নিরাপত্তা নেই। এমনকি পিতার কাছে মেয়ের নিরাপত্তা নেই। বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, ছোটদের প্রতি বড়দের স্নেহ, মানুষ হিসেবে অপর মানুষের বিপদে আপদে এগিয়ে আসা, অন্য মানুষের দুঃখ – কষ্টে কষ্ট পাওয়া, আজ এ যেনো প্রাচীন যুগের গল্প, বাস্তব যেনো এটা আর সম্ভব নয়।

ছোট বয়স থেকেই শিক্ষকের কাছে ও গুরুজনদের কাছে শুনতাম, মানুষের চারিত্রিক উন্নতিই বড় উন্নতি। কিন্তু এটা এখন যেনো কেবল কথার কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরল চিন্তা ভাবনায় মানুষের উন্নতি হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, এখন অর্থ-সম্পত্তি আর ভোগ বিলাসিতা ছাড়া মানুষের চিন্তার জগতে এখন যেনো আর কিছুই নেই। খবর মানে এখন  দূর্নীতি, কলহ, বৈষম্য, রক্তারক্তি ধর্ষণ ইত্যাদি। পত্রিকা খুললে আঁৎকে উঠতে হয়। ভালো-মন্দ মিলিয়ে মানুষের জীবন হলেও ভালোর কোনো লেশ নেই মন্দে মন্দে ভরে গেছে আমাদের সমাজ জীবন।

হাজার হাজার টাকা খরচ করে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করার চেষ্টা নয় প্রতিযোগিতা চলছে। হ্যাঁ অনেক বাবা-মা কষ্ট করে সন্তানকে শিক্ষিত করে তুলছেন ঠিক কিন্তু সেই শিক্ষা তাদেরকে কতটুকু মানুষ বানাচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষা ব্যবস্থা হলো দুই ধরনের একটি হলো সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা অপরটি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা। আমরা দেখেছি সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বের হচ্ছে আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপর একটি শ্রেণি। এই স্বার্থপরতা এমন যে, বাবা-মা যাকে শিক্ষিত করে তুললো সে বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতেও দ্বিধা করে না। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বের হচ্ছে একটি ধর্ম ব্যবসায়ী। যারা ধর্মব্যবসা ছাড়া আার কোন উপর্কজন রারার পথ জানে না।

দেহ আত্মা নিয়ে মানুষ। পাশবিক জীবন তার কাছে কাম্য নয়। কিন্তু আমি খাচ্ছি দাচ্ছি  অর্থনৈতিক উন্নতি করছি নিজে ভালো আছি সমাজে কে কেমন আছে কখনো চিন্তা করিনা  তখন মানুষত্বের মৃত্যু ঘটলো। একজন প্রকৃত মানুষকে সমাজের অন্যায় অশান্তি ব্যতীত করবে। এই অন্যায় অপরাধ কিভাবে দূর করা যায় সে চিন্তা করবে। মানুষকে অন্যায় অশান্তি থেকে বাঁচানোর জন্য জীবন দিয়ে চেষ্টা করবে। তাহলে তার মনুষ্য জীবন স্বার্থক হলো। এই কাজটি করে গেছেন প্রত্যেক নবী রসূলগণ ও তাদের অনুসারী মোমেনগণ। আমরা যদি ধর্মকে নিজেদের আত্মায় ধারণ করতে পারতাম তাহলে স্বার্থপরতার বিপরীতে পেতাম ত্যাগের, অনৈক্যের বিপরীতে ঐক্যের, শত্রুতার বিপরীতে ভ্রাক্তিত্বের। আমাদের সমাজ হতো সত্যকারের মানব সমাজ।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*