Main Menu

ব্রিজ নয় যেন মরণ ফাঁদ! ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী

বরগুনা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার আমতলী উপজেলার ২ নং কুকুয়া ইউনিয়নের ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডস্থ চুনাখালী খালের উপর অবস্থিত  ব্রিজটি আজ মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। পারাপারে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঢালাই পড়ে যাওয়ায় রডের ওপর  গাছ দিয়ে সাঁকোর মতো তৈরি করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ২ নং কুকুয়া ইউনিয়নের ১৭ নং পূর্ব চুনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যাওয়ার প্রধান সড়ক এটি। ওই সড়কের খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি। ঢালাই নেই, আছে শুধু রড। যেখান দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নানা শ্রেণি-পেশার প্রায় ৩ হাজার লোক যাতায়াত করে।ব্রিজ পারাপারে প্রতিনিয়তই তারা বিপদে পড়ছেন। বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী, বয়স্ক লোক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন(২৬) প্রায় ১৩ বছর পূর্বে ২০০৬ সালের শেষের দিকে খালটির উপর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এটি  পুরানো হয়ে যাওয়াতে গত ৩ বছর আগে থেকে এর ঢালাই ঝরে পড়া শুরু হয়। যার ফলে আজ এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
 আ. রশিদ বলেন, আমরা বুড়ো মানুষ হওয়াতে এখান দিয়ে পাড় হয়ে ঠিকমতো মসজিদে যেতে পারি না। এখান দিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে আমি কয়েকবার আহত হই।দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কালভার্ট এ অবস্থার কারণে আমাদের ভোগান্তি চরমে।জানা গেছে কোরবানির ঈদে একটি গরু এখান থেকে পড়ে গিয়ে পা ভেঙ্গে যায়। পরে উদ্ধার করে সেটি জবাই করা হয়। এখানে প্রতিনিয়তই কোন না কোনো দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে।
তারা আরও জানায়, এলাকার কেউ অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে আমাদের অনেক বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। রাস্তা এবং কালভার্ট খারাপ থাকায় এখানে কোনো গাড়ি আসতে পারে না। রোগীকে কাধে করে নিতে হয়।
তবে সবচেয়ে ভোগন্তিতে আছেন এখানকার স্কুল,কলেজ এবং মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। এদের মধ্যে ইউনুস আলী খান ডিগ্রী কলেজে  অধায়ণরত এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্র সোহাগ বলেন, প্রায় ১ মাস আগে এখানে পড়ে পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পাই।
এছাড়া একই এলাকার ৭ম শ্রেণীর ছাত্র লোকমানের ছেলে তানজিল, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া সুমি ও আনিসা এবং ৩য় শ্রেণির ছাত্র জিসান বলেন, আমরা প্রতিদিন স্কুল মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় ও আসার সময় এখানে এসে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকি। তাই সকালে বাড়ি থেকে আসার সময় আব্বা আম্মা পার করেন দেন। আবার ছুটির পর অন্যের সহায়তার পার হয়ে থাকি।
১৭ নং পূর্ব চুনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, আমাদের বিদ্যালয় ৩০০ অধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন তার ভিতরে অর্ধেকের শিক্ষার্থী এই ব্রিজ প্রতিদিন পারাপার করে। তো কোমলমতি শিক্ষার্থীর জন্য বৃষ্টি মেরামত করা একান্ত কর্তব্য। না হলে যেকোনো মরতে ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ যাতে ব্রিজটি  খুব তাড়াতাড়ি সংস্কার করা হয়।
ওয়ার্ডের মহিলা  ইউপি সদস্য পুতুল বেগম বলেন, সত্যি এটি একটি মরণফাঁদ। কালভার্টটি দুটি গ্রামের মধ্যস্থলে কোমলমতি শিশুদের কথা চিন্তা করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।
উপজলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন বিষয়টি আমার অবহিত ছিলনা আমার। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*