Main Menu

বোনের হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভাইয়ের খোলা চিঠি

আস্সালামু আলাইকুম
আমার চার মাসের অন্তসত্তা বোন মনোয়ারা বেগমের প্রকাশ্য খুনের খুনিরা আমাকে ও আমার ভাগনা ভাগ্নিকে খুন ও গুমের হুমকি দিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

মাননীয়
দেশনেত্রী, আমাদের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ সংসদ সদস্যগন সহ সকল সংসদ সদস্যবৃন্দের সহযোগীতা কামনা করছি। সাথে সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান আইজিপি, ডিআইজিগন, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভিতরে চাকুরীরত আমাদের সরকারের সহযোগী অভ্যন্তরিন আত্মীয়স্বজন গন, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সংবাদ কর্মি ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকগন, সকল প্রকার মানবাধিকার কর্মি, মানবাধিকার কর্মকর্তা, আমাদের সিলেট বিভাগের প্রধান ডিসি, এসপি মহোদয়গন, ভারপ্রাপ্ত র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান ৯ এর অধিনায়ক, এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বৃন্দ, সিলেট কতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বাংলার প্রায় ১৭ কোটি জনতার সর্বাত্তক সহযোগীতা চাইতেছি। যাতে আমার ৪ মাসের অন্তস্বত্তা বোন মনোয়ারা বেগম এর সঠিক সূরতহাল রিপোর্ট সহ মূল পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট সঠিকভাবে পেতে পারি এবং খুনিদের ও তাদের সগযোগীদেরকে ন্যায় বিচারের জন্য কাঠগড়ায় দাড় করানো যায়।
২০০৭ সাল, আমার বোন মনোয়ারা বেগম, পিতা: মৃত মছদ্দর আলী, গ্রাম: কালিজুরী, ডাক: বুধবারী বাজার, উপজেলা: গোলাপগঞ্জ, জেলা: সিলেট এর বিবাহ মো: শিবলু মিয়া, পিতা: মুত: আব্দুস শহীদ (দয়াল), গ্রাম: বানিগাজী, ডাক: চন্দরপুর বাজার, উপজেলা: গোলাপগঞ্জ, জেলা: সিলেট এর সাথে শরীয়ত মোতাবেক সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর থেকে শিবলু মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন নিয়ে আমার বোন মনোয়ারা বেগমের উপর যৌতুক সহ কারনে অকারনে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। বিবাহের পর কিছুদিন যেতে না যেতে আমার বোন মনোয়ারা বেগমকে তার পরিবারের লোকজন নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শারীরিক নির্যাতন করে তাদের পুকুরে ফেলে ইট পাথর নিক্ষেপ করতে শুরু করে। তাদের বাড়ীর আশপাশের লোকজন আমার বোনকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে আমাদের বাড়ীতে নিয়ে আসেন। আমার বোন অনেকদিন আমার বাড়ীতে বসবাস করে। অনেক দিন পর বিচার সালিশের পর আমাদের মুরব্বিদের হাতে পায়ে ধরে আর নির্যাতন না করার আশ্বাস দিয়ে আমার বোন কে নিয়ে যায়। তারপরও তারা থেমে থাকে নি। বাড়িতে নেওয়ার কয়েকদিন পর থেকে পুনরায় পূর্বের ন্যায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। যার ফলে আমার বোন ও আমার ভাগনা ভাগ্নীকে বেশিরভাগ সময় আমার বাড়ীতে থাকতে হত।
এ দ্বারাবাহিকতা বজায় রেখে গত ১০/০৬/২০১৮ ইং তারিখে আমার বোন মনোয়ারা বেগমকে ১,০০০০০ (এক লক্ষ) টাকা আমি আমার আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে এনে দেওয়ার জন্য আমার কাছে আমার বাড়ীতে পাঠায়। আমি অপরকতা প্রকাশ করলে আমার বোন চলে যায় তার স্বামীর বাড়ীতে। তারপর ১২/০৬/২০১৮ ইং তারিখে আমার বোন টাকা নিয়ে যেতে না পারার কারনে স্বামী শিবলু মিয়া, ভাই বাবলু মিয়া ও ফারুক মিয়া গনকে নিয়ে লাঠিছটা দিয়ে নির্মমভাবে প্রহার করে। সংবাদ শুনে আমি এবং আমার ভাতিজা জয়নাল আহমদ গিয়ে ঘটনা শুনে আমার বোনকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু তারা আনতে দেয় নি। গত রোজার ঈদের পর ২০/০৬/২০১৮ ইং তারিখ রোজ বুধবার রাত থেকে ১. রতিবুন নেছা স্বামী: আব্দুস শহীদ (দয়াল), ২. কামাল উদ্দিন পিতা: আব্দুস শহীদ (দয়াল), ৩. পাবলু মিয়া পিতা: আব্দুস শহীদ (দয়াল) – এ ৩ জনের প্ররোচনা ও পরামর্শে এবং নিম্নোক্ত খুনিগন সবাই একত্রিত হয়ে আমার ৪ মাসের অন্তস্বত্তা বোন মনোয়ারা বেগমকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে, পরামর্শ করে, একত্র হয়ে নির্যাতান শুরু করে।
১নং খুনি শিবলু মিয়া,
২নং খুনি বাবলু মিয়া,
৩নং খুনি ফারুক মিয়া, (পিতা: মৃত: আব্দুস শহীদ দয়াল, গ্রাম: বানিগাজি, চন্দরপুর বাজার),
৪নং খুনি বেদানা বেগম (স্বামী: এনু মিয়া, হলিমপুর),
৫নং খুনি পারভিন বেগম (স্বামী: ৩নং খুনি ফারুক মিয়া),
৬নং খুনি ডলি বেগম (স্বামী: আলমাছ উদ্দিন, আমকোনা)
৭নং খুনি লাইলি বেগম (স্বামী: জামাল উদ্দিন, সুনামপুর),
৮নং খুনি ফাতেহা বেগম (স্বামী: কালাম উদ্দিন, আমকোনা),
৯নং খুনি রোকসানা বেগম (স্বামী: নুর উদ্দিন, বাগলা),
১০নং খুনি জোসনা বেগম (স্বামী: ২ নং খুনি বাবলু মিয়া)
১১নং খুনি কামাল উদ্দিন (পিতা: আব্দুস শহীদ দয়াল, গ্রাম: বানিগাজি, চন্দরপুর বাজার)
গন সারারাত ধরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বন্দি করে রাখে। পরের দিন ২১/০৬/২০১৮ ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪.০০ ঘঠিকার সময় আমার বোন আমাদের বাড়ীতে পালিয়ে আসতে চাইলে শিবলু মিয়া ও তার পরিবারের সকল সদস্যদেরকে নিয়ে আমার বোনের হাত পা বেধে লাটি দিয়ে নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতিত অবস্থায় আমার বোন বার বার পানি খেতে চাইলে ১নং খুনি শিবলু মিয়া নিজে প্র¯্রাব করে সেই প্র¯্রাব আমার বোনকে পান করায়। ২নং খুনি বাবলু মিয়া টয়লেট থেকে হারপিক এনে আমার বোনকে গলা টিপে ধরে মুখে দেয়। তারপর তারা আমার বোনকে বার বার উপর থেকে নিচে ফেলতে থাকে যার ফলে আমার বোনের হাত এবং পা ভেঙ্গে যায়। আমার বোনের চিৎকার শুনে তাদের বাড়ীর আশপাশের, ছোটবড় , দোকানদার ও ব্যবসায়ী, কৃষক এমনকি মাদরাসা ও মসজিদের ইমাম ও ছাত্রগন তাদের বাড়ী ঘেরাও করে ফেলেন। আমার বোনকে বাঁচানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে তাদের বাড়ীতে ইট পাথর নিক্ষেপ করে গালিগালাজ করে চলে যান। কারন তারা তাদের ঘরের গ্রীল তালা বদ্ধকরে উপস্থিত জনতাকে গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমার বোন মনোয়ারা বেগমকে গলা টিপে বালিশ চেপে নির্মমভাবে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করেও লাশের উপর পা দিয়ে মুছড়াতে থাকে।
এর পর হত্যাকে ধামাচাপা দেবার জন্য তৎপরতা শুরু করে কারন তারা শিকারী ইতিপূর্বে মীরগঞ্জ কদুপুরের প্রকাশ্য একটি খুনের সাথে সম্পৃক্ত। সেই প্রকাশ্য হত্যাকান্ডকে ও ধামাচাপা দিতে সামান্য পিছ পা হয়নি। তারা এমনও ছোট ভাই বড় ভাই কে মারধর করতে এমনকি তাদের মায়ের উপর তারা আঘাত, ভাতিজী এবং ভাবিদের উপর হাত তুলতো এবং এসিড ও নিক্ষেপ করেছিল। না জানি তারা আরো কত গুপ্ত হত্যার সাথে জড়িত।
এলাকার নামকরা জগন্য ও নেশাখোর মানুষদের একত্রিত করে তাদের সাথে টাকা পয়সার লেনদেন করে সিদ্ধান্ত নেয় তাদের আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ ভাই বোন ডাক্তারদের সহযোগীতায় এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে এমন কথা উল্লেখ করে সম্পূর্ন ঘটনা সাজানোর পরামর্শ নেয়। এবং আমি সাইফুল আলমকে ব্যবহার করে হাসপাতাল থেকে কোন রকমের তদন্ত ছাড়া লাশ নিয়ে বাড়ীতে আসার প্রচেষ্টা চালানো হবে, যাতে পরবর্তীতে আর কারও কাছে বিচারের জন্য আমি যেতে না পারি। সে অনুযায়ী তারা সন্ধার আগে আগেই আমার নিহত বোনের লাশ হাসপাতালে পাটিয়ে দেয়। সেখানে তাদের আত্মীয় ভাই বোন ডাক্তারদের সহযোগীতায় ভর্তি ফরমে লিখিয়ে নেয় আমার বোন বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তারপর তাদের সব ষড়যন্ত্র শেষ করে আমাকে সন্ধ্যা ৭.২৬ মিনিটের সময় ২য় খুনি বাবলু মিয়া ফোন দিয়ে বলে আমি তাদের বাড়ীতে যাবার জন্য এবং উল্লেখ করে আমার বোনের অবস্থা খুবই খারাপ। তারা আমার বোনকে নিয়ে যাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ। আমি দেরি না করে তাদের বাড়ীতে যাবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। তাদের বাড়ীতে ঢোকার আগে তাদের বাড়ীর আশপাশের লোকজনদের কাছ থেকে আমার বোনের খুনের বিস্তারিত বর্ণনা শুনতে পাই। এমনকি আমার বড় ভাগনা ইয়াসিন আহমদের কাছ থেকে ও বিস্তারিত ঘটনা শুনি। এরপরও আমার বোনের লাশের কাছে যাবার জন্য অগ্রসর হতে থাকি। ৭.৫৬ মিনিটের সময় ২য় খুনি বাবলু মিয়া আমাকে ফোন করে বলে আমার বোনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎস্যা ব্যার্থ হলে সিলেট এম. এ. জি ওসমানী কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার ৮.০০ ঘটিকার দিকে ঐ ২য় খুনি বাবলু মিয়া আমাকে বলে ওসমানী হাসপাতাল তোমার বোনকে বাচাতে পারে নি। তখন আমি ২য় খুনি বাবলু মিয়াকে বলি যে তুমরা তুমাদের নাটক বন্ধ করে লাশ নিয়ে যেখানে আছ সেখানে থাক আমি আসতেছি। এরপর আমি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌছে দেখি আমার বোনের লাশ ভি.আই.পি এর মত রাখা। দেখতে পাই আমার বোনের হাত পা ভাঙ্গা, গলায় হাতের চাপ, মুখমন্ডলে রক্তাক্ত যখম। লাশ পুরোপুরি দেখার আগেই আড়াল থেকে ডাক্তার এবং বাবলু মিয়া ওয়ার্ড বয় কে দিয়ে লাশ হিমাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছিল, আমার কথার কর্ণপাত না করে লাশ নিয়ে হিমাগারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ওয়ার্ড বয়। এ সময় খুনিরা এবং তাদের সহযোগীরা আমাকে লাশ নিয়ে আসার জন্য হুমকি ধমকি দিতে থাকে। এমনকি তারা সরাসরি মাননীয় ডি.সি সাহেবের অনুমতি নিয়ে কোন রকমের পেস্টমর্টেম ছাড়া লাশ বাড়ীতে আনার জন্য আমাকে চাপ দিতে থাকে। সারা রাত আমাকে এভাবে হুমকি ধমকি দিতে থাকে। তাদের পরিকল্পনা ছিল আমাকে দিয়ে লাশ মর্গে না পাঠিয়ে বাড়ীতে আনতে পারলে তারা বেঁচে যায়, পরবর্তীতে আমি কারো কাছে বিচারের জন্য যেতে না পারি। কিন্তু আমি তা না করে সারা রাত আমার জীবনের ঝুকি নিয়ে তাদের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম দেখতে থাকি। তারপর সকাল হলে আমি তাদেরকে পরিস্কারভাবে জানাই যে লাশ পোস্টমর্টেম ছাড়া আমি নিয়ে আসতে পারব না।
আমি মেডিকেল পৌছার পর ৫ম খুনি মহিলাটিকে জিজ্ঞেস করলে উনি উনার কথা বাদ দিয়ে সব ঘটনা আমাকে বলেন। অথচ তিনি নিজে আমার বোনের হত্যার জন্য অনেকটা দায়ী। যখন আমার বোনকে মারধর করা হচ্ছিল তখন ঐ মহিলা আশেপাশের লোকজনকে গালিগালাজ করে গ্রীল ও দরজা তালা বদ্ধ করে।
আমি পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিস্তারিত খবর খুজতে শুরু করি। আমি দেখি যে আমার বোনকে ৮.২৫ মিনিটে এনে ভর্তি করা হয় এবং ৮.২৫ মিনিটে মৃত বলে জানিয়ে দিয়েছে। কোন রকমের কোন চিকিৎসা ও করা হয় নি এবং কোন চিকিৎসা পত্র পাওয়া যায় নি। জিজ্ঞেস করলে তারা বলে জনৈক এক ব্যাক্তি (২নং খুনি বাবলু মিয়া) বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আমার বোনকে এনে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এ রকমের কোন আলামত পাই নি। বরং শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার আলামত পেয়েছি। হাত, পা ভাঙ্গা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম পেয়েছি। আমার বোনকে ভর্তি করার সময় স্বামীর নাম (শিবলু মিয়া) সঠিক না দিয়ে ভুল নাম (শাহাব উদ্দিন) দেওয়া হয়।
এরপর ২২/০৬/২০১৮ ইং তারিখে সুরতহাল রিপোর্টের সময় কতোয়ালী থানার ৬৮০ এস. আই দেলোয়ার (০১৭১১৫৮০১৮৬, ০১৯১১৬৩৫৭৮৭,) কে দিয়ে রিপোর্ট টি নষ্ট করার পূর্ণাঙ্গ চেষ্টা করে যায়। সুরতহাল রিপোর্ট লিখার আগে আমাদের ৩ জনের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। রিপোর্ট লিখার সময় কতোয়ালী থানার এস. আই দেলোয়ার এর নির্ধারিত ২ জন মহিলা সহ আমরা উপস্থিত সবাই এস. আই দেলোয়ার কে পূর্ণাঙ্গ সুরতহাল বর্ণনা করি। কিন্তু তিনি তার কোন কিছুই সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেন নি। বরং তিনি খুনিদের পক্ষ নিয়ে সমুস্ত মিথ্যা সূরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন। আমাদের প্রতিবাদের উত্তরে তিনি বলেন যে তিনি যে রিপোর্ট টি লিখছেন তা তেমন জরুরি কিছু না যেমন একটা কলা পাতা এবং তিনি আমাদেরকে বলেন যে লাশের মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পুর্ন বিবরন মূল পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আসবে। পরবর্তীতে আমরা মেডিকেলের সাবেক সিনিয়র ডাক্তার এবং কয়েকজন জুনিয়র ডাক্তার ও আইনজীবী বুদ্ধিজীবীদের সাথে যোগাযোগ ও পরামর্শ করলে তারা পরামর্শ দেন এস.আই. দেলোয়ার আমাদের সূরতহাল রিপোর্ট নস্ট করে দিয়েছে এবং তারা বলে দেন যে সঠিক সূরতহাল রিপোর্ট আনার জন্য এস. আই. দেলোয়ারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য। এরপর আমরা সঠিক সুরতহাল রিপোর্ট নির্ধারিত ফরমে লিখে দেওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করলেও উনি অনেক টাকা লাগবে বলে আমাদের জানিয়েছেন এবং বলেন তারা (২নং খুনি বাবলু মিয়া ও তার শালা হেলাল মিয়া যে মিরগঞ্জ কদুপুরের মার্ডারের আসামী) ৪০,০০০/- টাকা নিয়ে এসেছে। আমাদেরকে বলেন খুনিদের থেকে বেশি টাকা তাকে দেওয়ার জন্য। তিনি আমাদের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়েছেন। সঠিক সুরতহাল রিপোর্ট এখনও দেননি বরং খুনিদের পক্ষ অবলম্বন করে ৩০৬ ধারা মামলা লিখে দেবেন বলে আমার কাছ থেকে স্বড়যন্ত্র করে স্বাক্ষর নিতে চেয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়, এ কথা ও বলেন যে হাসপাতালে ডি.সি এস.পি সাহেবগনকে নিয়ে এসে মৃত্যুর সময় জবানবন্ধি কেন নিলাম না (অথচ খুনিরা আমার বোনকে তাদের বাড়িতে নির্মমভাবে হত্যা করে হাপসপাতালে নিয়ে গেছে)। লাশ কাটার ঘরে আমার বোনের লাশ ঢোকানোর আগে ৩নং খুনি ফারুক মিয়া, ২নং খুনির শশুড়, ৭নং খুনির স্বামী ও তাদের সাথে উপস্থিত এলাকার নেশাখোর ব্যক্তিদেরকে দিয়ে জোরপূর্বক লাশ নিয়ে আসার প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। তড়িৎ গতিতে আমরা আমার বোনের লাশ নিয়ে লাশ কাটার ঘরে ঢোকিয়ে দেই। এখানে ব্যার্থ হয়ে তাদের নির্ধারিত মহিলা ডাক্তার কে লাশ কাটার সময় উপস্থিত করে। এবং গোলাপগঞ্জ থানায় এসে আমার বিরুদ্ধে অগ্রিম মামলা করার চেষ্টা করে অথচ আমি তাদের সাথে কোন কটু কথা বা কোন খারাপ ব্যবহার করিনি, আমি তখনও এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ নিয়ে বাড়িতে আসার অপেক্ষায়।
হাসপাতালের সব কাজ শেষ করার পর গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় লাশ দেখিয়ে নিয়ে আসার সময় রাস্তায় লাশ আটকানোর জন্য তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা চেয়েছিল তাদের বাড়ীতে নিয়ে আমার বোনের লাশ দাফন করতে। তাদের বাধা উপেক্ষা করে আমি আমার বোনের লাশ নিয়ে আসি আমাদের বাড়ীতে এবং বাড়ীতে লাশ নিয়ে আসার পর উপস্থিত শত শত পুরুষ ও মহিলাদের সামনে আমার বোনের খুনের ঘটনা বর্ণনা করি ও সবাইকে বিশেষ করে মহিলাদেরকে আমার বোনের পূর্ণাঙ্গ সুরতহাল দেখানো হয়। উপস্থিত সবাই সুরতহাল দেখে খুনিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তখন উপস্থিত ৪নং ও ৬নং খুনি চিৎকার করে বলে (কুত্তা বিড়ালের বাচ্চা মেরেছি) কেউ আমাদের কোন কিছু করতে পারবে না। তাছাড়া আরো অনেক গালিগালাজ করে তড়িৎ গতিতে চলে যায়। এরপর আমরা লাশ আমাদের নির্ধারিত কবরস্থানে দাফন করি।
২১/০৬/২০১৮ ইং তারিখ রাত্রে ২নং খুনি বাবলু মিয়া এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার বাড়ীতে আসার সময় বিষের বোতল নিয়ে এসে আমার বোনের বিছানার উপর নিক্ষেপ করতে চেয়েছিল কিন্তু বিষেয় বোতলের বিষ অর্ধেক তার গায়ে ও অর্ধেক খাটের নিচে ফেলে দেয়। ২৩/০৬/২০১৮ ইং তারিখে গোলাপগঞ্জ থানা থেকে পুলিশ এনে তাদের ঘরের অবস্থা ও বিষ সফলভাবে ফেলা হয়েছে কি না তা দেখানো হয়েছে। মানুষ খুন করা হয়েছে কি না তা জানার কোন প্রয়োজন মনে করেনি গোলাপগঞ্জ থানার পুলিশ। ঐদিন রাত্রে আমি আমার মুরব্বিগন নিয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা দেওয়ার জন্য গেলে আমাদেরকে থানার ওসি ফজলুল হক শিবলী সাহেব বলেন মূল পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে খুনের মামলা নেওয়া হবে এখন লিখিত কোন কিছু নেওয়া যাবে না। তারপর ও ০১/০৭/২০১৮ ইং তারিখে লিখিতভাবে গোলাপগঞ্জ থানায় মূল খুনিদের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল করলেও এখনও পর্যন্ত ওসি সাহেব কোন রকমের তদন্ত বা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন নি। হয়ত উনার ধারনা আমার ৪ মাসের অন্তস্বত্তা বোন কিছুদিন পর পূনরায় জীবিত হয়ে ফিরে আসবে এবং উনার কাছে আমার বোন ও তার গর্ভের সন্তান বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করবে। এদিকে আসামী গন তাদের বিরুদ্ধে মামলা না করার জন্য আমাকে এবং আমার ভাগনা ভাগনীকে গুম ও খুনের হুমকি প্রতিনিয়ত দিয়েই যাচ্ছে।
১০/১২ দিন আগে আমার বোনের পোস্টমর্টেম এর মূল সঠিক রিপোর্ট চিটাগং থেকে এম. এ. জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে পৌছলে এস. আই দেলোয়ার আমাদেরকে সংবাদ দেয় যে, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলেও লক সমস্যার কারনে আবার চিটাগং পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি জুনিয়র ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলে ভাই আপনি ধর্য্য ধারন করেন, আপনি সঠিক রিপোর্ট পাচ্ছেন না কারন তারা (খুনিরা) তাদের বাড়ি (পুরাতন বাড়ি) এবং জমি (নতুন বাড়ির পাশে) বিক্রি করে টাকা নিয়ে এসেছে হাসপাতালে মূল পোস্টমর্টেম রিপোর্ট টি নস্ট করার জন্য। যদি এখানে ব্যার্থ হয় তাহলে আপনার (আমার) খুব বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এরপর আমার প্রধান মুরব্বি মেডিকেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ বলে দিন প্যাথোলজি বিভাগে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট টি রয়েছে। প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা মেডিকেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগযোগ করলে তারা বলেন রিপোর্ট টি এস. আই. দেলোয়ার এর কাছে চলে গেছে। উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা এস. আই. দেলোয়ার এর সাথে যোগাযোগ করলে সে বলে তার কাছে নেই।
আমার বোনকে হত্যা করার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল:
১. যদিও আমি তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা দিতে পারছিনা তবুও আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি আমার বোনের সুখের জন্য।
২. ১নং খুনি শিবলু মিয়ার বিবাহিত তালাকপ্রাপ্ত মহিলা যার সাথে তালাক হওয়ার পর ও শিবলু মিয়ার সবসময় যোগাযোগ ছিল। বর্তমানে ঐ মহিলার ইটালি যাওয়ার অপেক্ষায়। তাই শিবলু মিয়া ওকে পুনরায় বিবাহ করে সে ও তার পরিবারের লোকজন ইটালিতে চলে যাবে সেই লোভে শিবলু মিয়া ও তার পরিবারের সকল সদস্য মিলে আমার বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
আমার ৪ মাসের অন্তস্বত্তা বোন মনোয়ারা বেগমের নির্মম হত্যাকান্ড সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের জন্য নি¤েœ স্বাক্ষীগনের নাম এবং সত্য প্রমানের জন্য কিছু তথ্য প্রমাণ পেশ করা হল।
১. খুনি ও তাদের সহযোগীদের ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইল নাম্বার পেশ করলাম। যা শুধু ২১,২২ ও ২৩ জুন ২০১৮ ইং এই তারিখের কল লিস্ট, কল রেকর্ড ও অবস্থান সংগ্রহ করলেই ঘটনার বিস্তারিত প্রমাণ পাওয়া যাবে।
(০১৭১৮৫৬২২৫৮, ০১৭৩১৭৫১৯৮১, ০১৭১৬৬৮৭৩০৯, ০১৭৮৭৪৮১৬৩০, ০১৭৮১৬০৫৫০৫, ০১৭৩১৮২৫৯২১, ০১৭১১৫৮০১৮৬, ০১৭৪২৮৭১৮৩৯, ০১৭০৬২২৯১৭৯, ০১৭২৩৭৯৯৩৮৮, ০১৭৪৮৬৩১৮৫৪)
২. যে সি এন জি তে করে আমার বোনের লাশ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল সেই সি এন জি চালকের বাড়ী চন্দরপুর, নাম: হেলাল উদ্দিন। তাকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসা করলে সব সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
৩. তাদের বাড়ীর আশেপাশের প্রতিবেশী লোকজন, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম সাহেবগন কে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসা করলে সঠিক ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
৪. আমার ২ ভাগনা ও ১ ভাগ্নি এই ৩ জনকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসা পূর্ণ ঘটনার বিস্তারিত বিষয়বস্তু জানা যাবে কারন তারা ঘটনার সময় তাদের বাড়ীতে উপস্থিত ছিল।
৫. আমার বোনকে খুন করার পর ৪নং খুনি বেদানা বেগম পালিয়ে এসে বাগিরঘাট হারিছ মিয়ার বাড়ীতে অবস্থান নেয় এবং রাত ২ ঘঠিকার সময় আমাকে ফোন করে আমার বোনের লাশ পোস্টমর্টেম ছাড়া বাড়ীতে আনার জন্য হুমকি দেয়।
৬. ৬,৭,৮,৯ নং খুনিগন আমার বোন খুনের পর তারা তাদের স্বামীর বাড়ীতে সন্ধ্যার আগে আগে ফিরে যাওয়া এবং স্বামীর বাড়ীতে গিয়ে মিথ্যা কথা বলা এবং মিথ্যা কথা বলতে গিয়ে ধরা পড়ে আবার তাদের বাবার বাড়ীতে ফিরে আসা রহস্যজনক।
৭. আমার বোন খুনের পর থেকে ১নং খুনি (স্বামী: শিবলু মিয়া) পালিয়ে থাকা।
৮. আমার বোনকে খুনের পর পরিকল্পিতভাবে আমাকে বা আমার আত্মীয়স্বজনকে না নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া। ভর্তি ফরমে বিষ লেখানো এবং স্বামীর নাম শিবলু মিয়া না দিয়ে ভূল নাম শাহাব উদ্দিন দেওয়া।
৯. আমার বোনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ৮.২৫ মিনিটে এবং মৃত জানানো হয় ৮.২৫ মিনিটে।
১০. আমার বোনের লাশের সাথে স্বামী শিবলু মিয়া না গিয়ে ২নং খুনি বাবলু মিয়া যাওয়া।
১১. আমি হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বারবার কল দিয়ে ২য় খুনি বাবলু মিয়াকে অনুরোধ করার পরও সে কাছে না আসা।
১২. আমি হাসপাতাল গিয়ে পৌছার সাথে সাথে ওয়ার্ড বয়কে দিয়ে আমার বোনের লাশ হিমাগারে দিকে আড়াল থেকে পাঠিয়ে দেওয়া ও আমাকে পিছন থেকে কল দিয়ে লাশ পোস্ট মর্টেম ছাড়া বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া।
১৩. আমার বোনকে নিয়ে হাসপাতালে যাবে বলে আমাকে প্রথমে জানানো হয় ৭.২৬ মিনিটে এবং ৮.০০ ঘঠিকায় আমাকে জানানো হয় মৃত্যুর সংবাদ। মাত্র ৫৯ মিনিটের ব্যবধানে কিভাবে বানিগাজী থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ রোগী দেখিয়ে এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং মৃত বলে ঘোষনা দেওয়া হয়।
১৪. রাত্রে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার স্থানে ৫নং খুনি উপস্থিত গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদে সমুস্ত খুনের ঘটনা বলে দেওয়া।
১৫. বার বার সব পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট নস্ট করার চেষ্টা করা। এস. আই দেলোয়ারকে দিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট নস্ট করা, তার কাছে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া।
১৬. আমার বোনের লাশ সরাসরি পোস্ট মর্টেম ছাড়া আনার জন্য জোরপূর্বক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
১৭. আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার জন্য থানা ও কোর্ট এ যাওয়া।
১৮. আমার আত্মীয়স্বজনকে ধোকায় ফেলতে না পেরে আমাকে ৫ লক্ষ্য টাকা দিয়ে কিনতে চাওয়া।
১৯. আমাকে কিনতে না পেরে খুনিরা তাদের পুরাতন বাড়ী ও জমি বিক্রি করে এবং লন্ডন ও ফ্রান্স থেকে টাকা আনিয়ে আমার বোনের মূল পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট টি নষ্ট করার জন্য হাসপাতালে গিয়ে প্রতারক চক্রদের নিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
২০. খুনিরা ও তাদের সহযোগীরা একত্র হয়ে পরামর্শ করে আমাকে এবং আমার ভাগনা ভাগ্নি কে হত্যা বা গুমের সিদ্ধান্ত নেওয়া।
২১. আমার বোনের নামে মিথ্যা বিষ খাওয়ার বদনাম না দেবার জন্য আমি হাত জোড় করে অনুরোধ করি। কিন্তু তারপরও তারা মিথ্যা বদনাম প্রচার করতে থাকা এবং বিষ প্রমাণ করার জন্য আমার বোনের ঘরে বিষ এনে ফেলে রাখা ও থানা এনে দেখানো।
২২. প্রায় ৪০ জনের মত স্বাক্ষী রয়েছেন যারা পূর্ণাঙ্গ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা সময়মত উপস্থাপন করবেন।
এছাড়া আরও অনেক প্রমাণ রয়েছে যা সময়মত পেশ করা হবে।
অতএব আপনার/আপনাদের কাছে আমার আকুল আবেদন বিষয়টি বিবেচনা পূর্বক স্বরেজমিন তদন্ত করত: সঠিক সূরতহাল রিপোর্ট সহ মূল পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট সঠিকভাবে পেতে পারি এবং খুনিদের ও তাদের সগযোগীদেরকে ন্যায় বিচারের জন্য কাঠগড়ায় দাড় করানো হয় এবং আমার ও আমার ভাগনা ভাগ্নিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনাদের মর্জি হয়।

বিনীত
সাইফুল আলম
মোবা: ০১৭১২০৬৬৬২৯






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*