Main Menu

বইয়ের চাপে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে!

এম, রিদুয়ানুল হক

এমন দেশটি কোথায় পাবে, যেদেশে বইয়ের সংখ্যা গণনা করা খুবই মুশকিল। শিক্ষার স্থান যেখানে যাক না কেন, বইয়ের চাপ থাকবেই। আমাদের ক্ষুদ্র একটি দেশে যতসব পাঠ্যপুস্তক রয়েছে তা অন্য কোনো দেশে কেউ দেখাতে পারবে না। অন্যান্য দেশে প্রতিটি ক্লাসে সর্বোচ্চ তিনটির বেশি কোনো পাঠ্যপুস্তক নাই। কিন্তু আমাদের দেশে বইয়ের সংখ্যা এতো বেশি যে, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বইয়ের নামগুলো মুখস্ত বলতে পারে না। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শাখায় এতো বইয়ের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে হয় না। আমি কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সাবজেক্টের বিরোধিতা করছি না, শুধু বলছি এতো বই শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো মতেই প্রযোজ্য নই। আপনি আপনার যুক্তি দিতে পারেন, কিন্তু সেই যুক্তি শিক্ষার্থীদের পক্ষে হবে না। এটা শিক্ষার্থীদের ওপর একপ্রকার জুলুম!

দেশের সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, জজ, ব্যারিষ্টার সহ উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গরা এটির পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ফলাফল শুন্য।

কারণ দেশের ইংরেজি পন্ডিতের কাছে যদি কেউ প্রশ্ন করে তখন তিনি বলবেন ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা। এটি খুবই দরকার। বাংলা পন্ডিতরা বলবেন বাংলা দেশীয় ভাষা, এটি ছাড়া উপায় নেই। গণিত পন্ডিতরা বলবেন গণিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এটি ছাড়া দেশ অচল। সমাজ বিজ্ঞান পন্ডিত বলবেন সমাজ বিজ্ঞান না পড়লে শিক্ষা পরিপূর্ণ হয় না। বিজ্ঞান পন্ডিত বলবেন বিজ্ঞান ছাড়া বর্তমানে এক মুহুর্তও চলে না। ধর্মীয় পন্ডিত বলবেন যে শিক্ষায় ধর্ম নেই সেই শিক্ষার মূল্য নাই। ড্রয়িং পন্ডিত বলবেন ড্রয়িং না জানলে শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে পারে না। তথ্য প্রযুক্তি পন্ডিত বলবেন এটি অবশ্যই লাগবে, কারণ বর্তমান বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তির যুগ। কৃষি পন্ডিত বলবেন এটি ছাড়া কৃষি ব্যবস্থা অচল। মনোবিজ্ঞানীরা বলবেন মনোবিজ্ঞান মানব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইত্যাদি ——— ইত্যাদি।

আবার আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা বা সুশীলসমাজরা একে অন্যকে সহজেই গ্রহণ করতে নারাজ। বাংলা বুদ্ধিজীবীরা অন্যান্য সাবজেক্টের বিরোধী। ইংরেজি পন্ডিতরা অন্যান্য সাবজেক্টের বিরোধি। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলেন বিজ্ঞানের কাজ কি? আবার বিজ্ঞান পন্ডিতরা বলেন মনোবিজ্ঞানের কাজ কি? এইভাবে একে অন্যের প্রতি প্রতিনিয়ত তর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এইসব বইয়ের চাপ সহ্য করতে খুবই অসহায়।

তাহলে শিক্ষার্থীরা কি করবে!!
বইয়ের চাপে প্রায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এবিষয়ে সরকারবে চিন্তা করতে হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক – বিবিসি একাত্তর






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*