Main Menu

ফসল বিক্রি অনিশ্চিত হলে হুমকিতে পড়বে খাদ্য নিরাপত্তা

বিবিসি একাত্তর রিপোর্ট

উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো এখন কর্মব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কুষ্টিয়ার কৃষকেরাও। রবিশস্য ঘরে তুলতে কুষ্টিয়ার মাঠে মাঠে এখন কৃষকদের সরব উপস্থিতি।

আর এ কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন করতে সহায়তা দিচ্ছে কৃষি বিভাগও। তবে শুধু ফসল ঘরে তোলাই না, ন্যায্যমূল্যে এ ফসল বিক্রির নিশ্চয়তাও চান কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমের ফলন ভালো হলেও, ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে না পারলে, পরবর্তী চাষাবাদ বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে স্থবির হয়ে পড়তে পারে উৎপাদন ব্যবস্থা।

বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থায় প্রতিটি অঞ্চলের চাষাবাদ পরিচালিত হয় একটি প্রধান ফসলের উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ যে অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া যে ফসলের জন্য উপযুক্ত এবং কৃষকদের জন্য লাভজনক- সেখানে সে ফসলই উৎপাদন করতে কৃষক বেশি আগ্রহী হন।

কারণ, লাভজনক ফসল বিক্রির লভ্যাংশ দিয়ে বছরের বাকি সময়টায় অন্য ফসল ফলানো হয়। তাই উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রধান বা লাভজনক ফসলটির বিক্রির নিশ্চয়তা জরুরি।

কুষ্টিয়ায় এই প্রধান রবিশস্যটি হল তামাক ও ভুট্টা। এছাড়াও বছরের পরবর্তী সময়গুলোতে এখানে ধান, গম, আঁখ চাষ করা হয় প্রচুর পরিমাণে। পাশাপাশি চাষ হয় অন্য শাকসবজিও।

করোনার এই সময় ফসল বিক্রি হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত কুমারখালী উপজেলার কৃষক শফিউল্লাহ। তিনি বলেন, ’এখন তামাক বিক্রির সময়। আমরা মূলত তামাক বিক্রির টাকা দিয়েই অন্য ফসলগুলো চাষ করি। ফলন যেমনই হোক, বিক্রি নিশ্চিত থাকে। এখন, করোনার জন্য কি হয় জানিনা। সামনে ধানসহ কিছু ফসল চাষ করতে হবে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত সব ফসল বিক্রি না হচ্ছে নিশ্চিন্ত হতে পারছি না ।’

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা যাতে ব্যাহত না হয় তা নিয়ে ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকগণ নিয়মিত চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এ সকল নির্দেশনা মেনে এগিয়ে এসেছে একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিছু দায়িত্বশীল কোম্পানি তাদের নিবন্ধিত কৃষকদের বর্তমান করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচী পালন করছে। এক্ষেত্রে তামাক কোম্পানিগুলোও এগিয়ে আসছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি তামাক কোম্পানি করোনা মোকাবিলায় সরকারি নীতিমালা মেনে চলছে। এছাড়াও কৃষকদের মাঝে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশিকার লিফলেট, মাস্ক, স্যানিটাইজারসহ ইত্যাদি সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণ এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করছে কেউ কেউ। দুর্যোগ সত্ত্বেও কয়েকটি কোম্পানি সময়মত পাতা কিনে নিচ্ছে বলেও জানান কৃষকেরা।

আর কুষ্টিয়ার এই পুরো কৃষি কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে রেখেছেন স্থানীয় প্রশাসন । এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী দিক নির্দেশনার ফলে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও তিনি বারবার বলেছেন যেন কৃষি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত না হয়। আমাদের মাননীয় কৃষিমন্ত্রীও আমাদের কৃষকদের সব সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা জেলা প্রশাসন থেকে বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য যা যা করনীয় সবই করছি।’

তবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু চাষাবাদ পর্যায়েই না, ফসল বিক্রির পর্যায়েও সরকারের সহায়তার দাবি জানান কৃষকেরা।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*