Main Menu

পেকুয়া উপজেলা বনাম মান্যবর 

সাইফুল ইসলাম বাবুলঃ

 

“আপনার শ্যান দৃষ্টি পডুক সে তথাকথিত অত্র অঞ্চলে জিকে শামীমের উপর।”

 

হেয় বা উদ্দেশ্য মূলক নয়। সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ। দয়া করে আমাদের দিকে দৃষ্টি দিন। অনেক কিছুই আপনার অগোচরে। গোচরে আসলে ও অবচেতন মনে সবই ভুলে যান। রাজনীতিবিদদের সচেতন দোষ অতি স্নেহ যা প্রশ্রয়ের নামান্তর। একটি উদাহরণ দিচ্ছি, এক ভৃত্য ছিলো নবাব স্যার সলিমুল্লার। সে একদিন এক চিমনি ভাঙলো ভাঙ্গার পর ভয়ে লাপাত্তা। নবাব কাউকে না দেখে জিজ্ঞেস করলো আমার এ ভৃত্য কোথায়? অন্যরা বললো লাপাত্তা সাথে সাথে নবাব তাকে হাজির করার নির্দেশ দিলেন। ছড়িয়ে পড়লো পাইক-পেয়াদা তাকে যথারীতি ধরে আনা হলো নবাবের প্রশ্নে অপরাধীর মতো উত্তর দিলেন হুজুর একটি ছিমনি ভেঙ্গেছি তাই ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। নবাব বললেন ওহো! ঐটা চিমনি ভাঙ্গার আওয়াজ ভারি মধুর তো যাও তুমি প্রতিদিন একটা করে চিমনি ভাঙবে। ঐ ভৃত্য পরে এতই স্বেচ্ছাচারী হলো সে মহলের কাউকে পরোয়া করতো না শেষে নবাব তাকে গরাদে পুরে নিস্তার পেলেন।

 

মান্যবর সেই চিমনি ভাঙ্গা  ভৃত্যগুলো এখন সমাজের সব কিছু ভেঙ্গে সাবাড় করছে, অতি স্নেহে হয়তো কিছু বলছেন না।

মাঝে মাঝে আমজনতা বলে আপনার প্রাণভোমরা নাকি তাদের হাতে তাই কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। আবার অন্যদের ভাবনা আরেকরকম। তারা বলছেন আপনি নীরবে পর্যবেক্ষণ করছেন। শাসনের সময় হলে ঠিকই করবেন কিন্তু সময় গড়িয়ে যাচ্ছে কথাই বলে ” সময় থাকতে না নাওলে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস”। আমরা আসু বিপদ দেখছি। তারাই আপনাকে ডুবাবে। আপনার প্রতি এখন অনেকে অভিমান করছে শেষে বিরোধীতাও করতে পারে। পানিকে বাঁধ দিয়ে থামানো যায়। কিন্তু জনরোষ থামাবার কোন বাঁধ নেই, রক্তারক্তি খুন, জখম ছাড়া ভালো কিছু হবে না। আপনাকে এখনো মানুষ হৃদয় দিয়ে ভালবাসে দয়া করে তাদের ভালবাসার দাম দিন। ভয় দিয়ে দৌড়ানো যাবে কাছে আনা যাবে না। শক্তি আর কৌশল দিয়ে খেলা যায়। রাজনীতি করা যায় না। সেখানে ভালবাসার মিশাল লাগে। দয়া করে চিমনি ভাঙ্গা ভৃত্যদের বাদ দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মন বুঝুন। পৃথিবীর বড় বড় সিংহাসনের পতন হয়েছে তোষামোদ পরিবেষ্টিত হওয়ার দরুন।

 

হয়তো একদিন এমন স্লোগান উঠতে পারে…

আপনার সাহায্যের দরকার নেই।

আপনার ভিক্ষার দরকার নেই।

আপনার কুত্তা সামলান।

কারণ তাদের জন্য আপনার কাছে যাওয়া যায় না। সব জনতার লাঠি নেই, টাকা নেই, দাপোড় নেই, তাই বলে কি ঐ নিঃস্ব লোকগুলো মানুষ নয়? বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। অশুভ আস্ফালন এর কাছে সাধারণ মানুষ পরাজিত। তাদের একটু হাত দিয়ে টেনে তুলুন, আপনার মুখের দিকে তারা চেয়ে আছে। যাদের জীবনে ভালো কাজের কোন উদাহরণ নাই তারা কেনো সমাজের নেতৃত্ব দিবে?

 

অতি স্নেহে অনেক প্রশ্রয় দিয়েছেন এখন একটু লাগাম টানুন। মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ আপনার দৃষ্টিতে আসছে না। মানুষ চাঁদাবাজী, মিথ্যা মামলা ও হয়রানী, দখল, নাজেহাল অন্যায় প্রভাব থেকে মুক্তি চায়। এই বিষয়গুলো আপনার নজরে আসছে একপেশে হয়ে তাই আপনি একপিট দেখে চলছেন। দয়াকরে হৃদয় প্রসারিত করে সবাইকে ডাকুন।

 

বুকে হাত রেখে বলুনতো আপনার তৃণমূল কর্মীদের কথা আপনার কানে যায় কিনা। যারা মোডলীপনা কবে নেতৃত্বে বসে আছেন তারাই আপনাকে বিক্রি করছে জনতার কাছে। এখন তারা যা বলে তাই হচ্ছে। তাদের হুমকি বন্দুকের গুলির চেয়েও শক্তিশালী। পড়ছে নিজ দলের সাধারণ কর্মী সমর্থকদের উপর। মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে নিজ ঘর খালী করে  দত্তক পুত্র লালন-পালন করতে। তারা কখনোই পিতৃ জ্ঞান করবে না তারা তো মু মে শেখ ফরিদ, বগলমে ইট। সময় হলে বের করবে, আপনার প্রাপ্য জনতা আপনাকে দিয়েছে যেভাবে হোক! এখন আপনি চাইলে অনেক ভালো করতে পারেন সাথে আমরাও ধন্য হবো। তাই বলছি বারবার ভৃত্যকে  চিমনি ভাঙ্গার সুযোগ না দিতে।

 

এক লাঠিয়ালের দশ পুত্র লেঠামী করাই তাদের পেশা তাই  ঐ পেশাকে দৌলত বলতো। ঐ লাঠিয়াল ছেলেদের নামের পিছনে দৌলতানা শব্দ উপাধি হিসেবে ব্যবহার করলেন। তাই তার পুত্রদের নাম হলো কলিমুদ্দিন দৌলতানা ছমিউদ্দিন দৌলতানা। অর্থাৎ দৌলতে আনায় আনায় ভাগ করা হয়েছে। এখন আমরা দৌলতানাদের দৌরাত্ম্যের শিকার। তাদের এই দিতে হবে সেই দিতে হবে, তাদের কথায় উঠবস করতে হবে। আপনার বারনের পরওকি তারা সে কথা মানছে? তাই তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তথা দৌলতানা থেকে বিরত রাখার অনুরোধ রাখছি। ভালো-মন্দ থাকবে তবে শিষ্টের পালন যেনো প্রাধান্য পায়।

 

আপনার ইশারায় নেতৃত্ব নির্বাচিত হয় সেটা অতীতেও দেখেছি। তাই ভালো লোক গুলো তুলে আনুন। কোনো বাঙারীর দোকানের মাল যেনো নমিনেশান না পায় সে আরজ রাখছি। আমরা জানি আপনার কাছে ইসমে আজম আছে। শেষে জনতার উপর রাগ করবেন না।

 

উদার হৃদয় নিয়ে চলেন তাই আপনি অনেকবার নির্যাতিত হয়েছেন। আপনার সম্মানের জন্য লড়াকু জনতা রাজপথে প্রতিরোধ করেছিলো সেই আপনি কিনা জনবিচ্ছিন্ন লোকদের লালন করেন! আমরা বারবার হেরে যাচ্ছি কিছু মানুষের ইগোকে দাম দেওয়ার জন্য। এই জনপদে আপনি মান্যবর আপনি পঁচে যাওয়া মানে আমরাও পঁচে যাওয়া। তাই আপনার শ্যান দৃষ্টি পডুক সে তথাকথিত অত্র অঞ্চলে জিকে শামীম উপর। এক নিডানেতে বেচে ফেলতে পারেন।

আপনি ভাবছেন তারাই তো সবসময় আপনার পাশে ছিলো। আসলে তারা আপনার আশ্রয়ে ছিল মাত্র। দুষ্ট গরুর মতো আপনার গোয়াল ঘর খালি করছে। অপছন্দ আপনাকে না অপছন্দ সেই দৌলতানাদের। আমরা সাধারন তাই একটু আবেগ দিয়ে বললাম। আপনাকে না বললে কাকে বলবো, বেয়াদবি নিবেন না নীরবে আপনার পাশে থাকবো কিন্তু দৌলতানাদের পাশে নয়। তাই বলে ত্যাজ্য করবেন না মটকার চাউল খালি হয়ে যাবে।



« (পূর্বের সংবাদ)



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*