Main Menu

পান সুপারী দোকানের নামে দিরাইয়ে বাস ষ্টেশনে  চলছে দেহ ব্যবসা 

নাইম তালুকদার, সুনামগঞ্জ… 
সুনামগঞ্জের  দিরাই শহরের প্রাণকেন্দ্র বাস ষ্টেশনেকে  কেন্দ্র করে  অবস্থিত এ সকল পতিতালয়   পান সুপারীর  দোকানের  নামে পরিচিতি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে চলে আসছে অনৈতিক কাজ। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। আর এই বাস ষ্টেশনে  উঠতি বয়সী ছেলেদের আনাগোনাই বেশি। বিশেষ করে  স্কুল  কলেজের  ছাত্ররা। এতে ধংস হচ্ছে    অত্র এলাকার   যুব ও ড্রাইভার সমাজ ।
দীর্ঘদিন ধরে  দুই তিনটি মার্কেট  এই ব্যবসা চলে আসছে, বিষয়টি স্বীকারও করেছেন পান সুপারী দোকানের নামে পতিতালয়ের সর্দারীনি সুন্দরী খাতুন। পতিতালয়ের অনেকরাই  অনেক সময় বলে, সব  কিছুই ম্যানেজ করে এ কাজ করা হয় বলে জানান।
সরেজমিন দিরাই বাস ষ্টেশনে  গিয়ে  দেখা যায় দিরাই  তেল পাম্পের পাশেই আব্দুল হেকিম মার্কেটে  আমার ঘরে এসো   বলে রিসিপশনে বসে  আছেন একজন মধ্যবয়সী নারী ।  দ্বিতীয় ধাপে আসবে কাস্টমারের পছন্দেরর নারী খোঁজ মিলবে, ইচ্ছে মতো রমনীদের দেখে-শুনে কথা বলে পছন্দ করার বিষয়টি।
 আব্দুল হেকিম ও  লন্ডনী আম্ভর আলী মার্কেটের  কয়েকটি রুমে রয়েছে একাধিক নারী। বিভিন্নভাবে কাস্টমারকে আকৃষ্ট করতে তারা ব্যস্ত। পছন্দ  হলে চলে দরকষাকষি, বাস্তবে এমন চিত্র দেখা গেছে যে, দরকষাকষির এক পর্যায়ে মার্কেট  থেকে ফিরে আসতে গেলে যে কোনো একজন একটু আড়ালে ডেকে নিয়ে কিছু অশ্লীল কথা বলে। একই সাথে বিভিন্নভাবে অঙ্গাভঙ্গির মাধ্যমে আকৃষ্ট করার চেষ্টাও করছে উঠতি বয়সের মেয়েরা।
কৌশলে পরিচয় জানতে চাইলে নিজেকে এলাকার প্রভাবশালী   লোকের মেয়ে  দাবি করেন একজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব অবৈধ দেহ ব্যবসায় জড়িতরা দিরাইয়ের পল্লী অঞ্চলের ও ঢাকার বাহিরের  বিভিন্ন শহরের মধ্যবয়সী নারী ও  মেয়েরা। এদের বড় ধরনের নেটওয়ার্ক আছে। বিভিন্ন সময়ে  এলাকায় পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে এই অবৈধ ব্যবসা করেন তারা।
পান সুপারী দোকানের  নামে দিনের পর দিন চলছে এই রমরমা দেহ ব্যবসা। এখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া উঠতি বয়সী তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের আনাগোনা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাস ষ্টেশনে  কর্মরত গাড়ির সুপারভাইজার এক ব্যক্তি জানান, আমি এখানে গাড়ির ম্যানাজারি করি। আম্ভর আলী মার্কেটে ও আব্দুল হেকিম মার্কেটের  মালিক পক্ষ বিভিন্ন সময় পতিতাদের কাছে ভাড়া দেন মার্কেট,। অল্প  বয়সের মেয়ে ও মধ্য বয়সের  নারীদের নিয়ে এসে পতিতাবৃত্তি চালিয়ে আসছেন। এই মার্কেটে  যে কোনো সময়ে অল্প বয়সের যুবতী  মেয়েসহ বিভিন্ন ধরনের নারীর দেখা মিলে বলে জানান তিনি।
পান সুপারী দোকানের  নামে এই অবৈধ পতিতালয়ের ব্যবসার বিষয়ে আব্দুল হেকিম মার্কেটে অবস্থানকারী পতিতাদের সরদারনী সুন্দরী খাতুন  জানান,  পেটের তাড়নায় আমরা কয়েকজন লোকাল মেয়েকে নিয়ে এ ব্যবসা করি এ কথা সত্য। অনেক কিছুই ম্যানেজ করে এ কাজ করি। আমি অন্য চাকরি খুঁজছি এই কাজ ছেড়ে দিবো বলে। আসলে আমারও পরিবার আছে। অন্য চাকরি পেলেই এ কাজ ছেড়ে দিব। এই নিউজ না করার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন পতিতালয়ের সরদারনী সুন্দরী খাতুন। অপর দিকে দিরাইয়ের তাফালিংপাড়া নামে একটি মহল্লা আছে সেখানে সরকারি জায়গাকে দখল করে ঘর নির্মাণ করে দিনের পর দিন অবাধে দেহ ব্যবসা করে আসছে একদল মধ্যবয়সী নারীরা। তাদের এই অশ্লীল কর্ম কান্ডে অতিষ্ঠ এলাকার লোকজন,। অনেক সময় এই রাস্তা দিয়ে চলতে ফিরতে এলাকার বাসিন্দাদের বেঘাত ঘটে,। স্কুল কলেজের ছাত্রীরা লজ্জিত হয়ে এই রাস্তা দিয়ে অনেকই আসেন না। দিনের পর দিন সরকারি জায়গায় উপর ঘর নির্মাণ করে দেহ ব্যবসা চলছে। এই রোডে বসবাসরত একজন ব্যাক্তি জানান,আমাদের লজ্জা শরমে মাথা নেই। অনেক সময় প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়েদের নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে বাজারে যেতে মন মানে না। অবেধ দেহ ব্যবসার তান্ডবে দিন দুপুর রাস্তার পাশেই চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। অনেক কষ্ট করে ভিতরের রাস্তা দিয়ে বাজারে যেতে হয়। এব্যাপারে দিরাই থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন,এ বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*