Main Menu

পরীক্ষা ছাড়াই ঢাবিতে ভর্তি: সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি টিআইবির

বিবিসিএকাত্তর ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তির অভিযোগ ওঠার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে উল্লেখ করে সৎ সাহসের সঙ্গে অভিযোগ আমলে নিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকে ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ সঠিক হলে তা হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।”

তিনি বলছেন, “উত্থাপিত অভিযোগ বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ তথা মেধাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সকল প্রত্যাশার জন্য অশনি সংকেত। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য অপরিহার্য, অন্যদিকে নিয়মনীতি অনুসরণ করে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করে স্বচ্ছতা ও শুদ্ধাচার চর্চার মাধ্যমে ভর্তি প্রত্যাশী সকল শিক্ষার্থীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করাও তেমন কর্তৃপক্ষের গুরুদায়িত্ব। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার ব্যত্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাই।”

“বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রত্বের অবস্থাকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে পরিণত করার যেকোনো প্রয়াসকে কর্তৃপক্ষ প্রতিহত করবেন, আমরা এই প্রত্যাশা করি। অন্যথায় গুণগত শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে যুগোপযোগী বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য যুব সমাজের যে স্বপ্ন তা ধূলিসাৎ হবে”, বলেন তিনি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাজনৈতিক বিবেচনায় বা অন্য কোনো সাময়িক সুবিধা অন্বেষী স্বার্থান্বেষী চক্রান্তের কাছে জিম্মি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের আত্মঘাতী অবস্থান প্রতিরোধের আহ্বান জানায় টিআইবি।”

তিনি আরও বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে একদিকে যেমন এই অনিয়ম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে, অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গভীরতর আস্থাহীনতার শিকার হবে।”

উল্লেখ্য, প্রায় ২৮ বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর চলতি বছরের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ও হল ছাত্র সংসদের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ১১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ছাত্রলীগের ৩৪ জন সাবেক ও বর্তমান নেতা ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। নির্বাচন করতে আগ্রহী ছাত্রদের মধ্য থেকে পরে ৮ জন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সম্পাদক ও সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নেন, বিজয়ী হন ৭ জন। দুটি হল সংসদের ভিপি পদে অংশ নেন আরও দুজন, যাঁদের একজন নির্বাচিত হন, অন্যজন পরাজিত হন। ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যও ছিলেন আরেকজন।

পরীক্ষা ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়া ঘটনায় অভিযুক্ত ডাকসু নেতারা হলেন মো. রাকিবুল হাসান (শিক্ষাবর্ষ ২০০৯-১০), তিনি কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রলীগের বিগত কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাকিবুল কর্মসংস্থান সম্পাদক ছিলেন। ইতিহাস বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র নজরুল ইসলাম, তিনি সদস্য পদে নির্বাচিত। নজরুল ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। একই অভিযোগে অভিযুক্ত ডাকসুর সদস্য মুহা. মাহমুদুল হাসান, নিপু ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. আরিফ ইবনে আলী (শিক্ষাবর্ষ ২০১০-১১) এবং স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী (শিক্ষাবর্ষ ২০১১-১২), ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর (শিক্ষাবর্ষ ২০০৯-১০), আবদুল আলিম খান তিনি এফ রহমান হলের ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন।

আলীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ডাকসুর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রদীপ চৌধুরীও ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে পরীক্ষা ছাড়াই ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*