Main Menu

নীতিহীনতার প্রতিচ্ছবি

সাইফুল ইসলাম বাবুল
কিভাবে লিখবো, কিভাবে বলবো, ভেবে পাচ্ছিনা। কারণ সত্যি বলার সুযোগ কম। সত্য সুন্দর কিন্তু তেতু, তেতু অনেকের সহ্য হয় না। আর একটা ব্যাপার হলো আমরা ছোট মানুষ তাই আমাদের ধমক দেয়া, আক্রমণ করা সহজ তাই একটু ভয়তো রয়েছে।
এখন দেখছি নীতিহীনতার কিনারায় দাঁড়িয়ে ভয় পেয়ে লাভ কি? তাই ভয়কে জয় করার সামান্য দুঃসাহস দেখাচ্ছি। চলতি সময়ে চলছে বন্যা পরিস্থিতি, জলাবদ্ধতা। প্রধান কারণ নদী খাল, নালা, নর্দমা দখল, নদীর চর দখল। আবার দেখছি পানি নিষ্কাশনের পথ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাবার বদৌলতে বন্ধ হওয়ার পথে। কিসের তদারকী কমিটি? রাজনৈতিক টাউট, সমাজের পেশিশক্তির কাছে লিজ দিয়ে মাছ মারার নামে সম্মুখে বাধ, পলবোট, জাল বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। তাহলে বন্যা বা জলাবদ্ধতার সুযোগ থেকেই যাচ্ছে। নতুন জায়গা প্লাবিত হচ্ছে,, প্রতিরোধ প্রয়োজন সাথে ত্রাণ। দুর্যোগের সময় ত্রাণের দরকার স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে। ত্রাণ মানে ফটো শেসন ভাগাভাগি অপচয়। যাক ভয়াবহ বন্যা থেকে দেশ বাঁচুক এই কামনা করি। এ কথাগুলো পেকুয়ার জন্য বললাম।
 তার চাইতেও একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি আছে তার নাম রাজনীতি। এখন নীতিহীনতার ষোল কলা পূরণ হয়েছে। সব জায়গায় রঙ্গিন আলো যা জনতার চোখে ধাঁধা লাগতে পারে। সঠিক পথ দেখাবে বলে মনে হয় না। কেউ যখন রাজত্ব পায় তখন সে দেশ, জনতা, আকাশ, বাতাস, সবই সে রাজার অাপন হয়ে যায়। এখন দেখলাম উল্টো রাজা যেনো হাজার বছর বেঁচে থাকে সে ব্যবস্থা সাজাচ্ছেন। বিশেষ সন্ন্যাসী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সন্ন্যাসীরা গুনে, পড়ে, খুঁজে বের করেছে কে বা কাহারা ভবিষ্যতে রাজার বিরোধীতা করবে। কিংবা রাজার আয় ইনকামের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। সন্ন্যাসীরা এই সুযোগে অনেক আয় ইনকাম, সামাজিক অনাচারের লিপ্ত হয়েছে, তারাও হয়তো কোনদিন ছোট ছোট পদে আসীন হয়ে জনতার বারোটা বাজাবে। ইতিমধ্যে থানাসহ প্রশাসনিক দপ্তর তাদের কথায় উঠবস করছে তাদের কথায় নিরাপরাধ লোকজন আসামি হয়। অজুহাত  উপরের নির্দেশ। যাক সেখানে তেমন কিছু বলার নেই। সন্ন্যাসী বংশনীয় লোকজন  চায়ের দোকান কিংবা রাস্তাঘাটে আদালত বসায় শুধু কিছু টাকার জন্য। এখন তাদের মর্জি শিরোধার্য।
ফাঁকে সামান্য  মাদক ব্যবসা পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে। জামিনে আসার সময় বৃষ গরুর মতো ফুলের মালা। রাজার সত্যায়নে সে এখন সমজদার। এখন বিচার হুমকি-ধমকি দিয়ে টু পাইস কামানোর হচ্ছে। দুটো ভাত হলে ক্ষতি কি? আরো দেখলাম রাজা সন্ন্যাসীদের নিয়ে মহারাজার দরবারে গমন করেছেন। সন্ন্যাসীরা সবাই চেনা মুখ- কেউ ডাকাত, কেউ জুলুমবাজ, কেউ গায়ে মানেনা আপনি মোড়ল, ০% জনপ্রিয়তা নিয়ে রাজনীতি হয় না। তারা শুদ্ধ নির্বাচনে আসলে ভোট সাত সমুদ্দর তেরো নদীর পাড়ে চলে যাবে। অবশ্য মন্ত্র থাকলে অন্য কথা কিন্তু মন্ত্র সব জায়গায় ফলে না ইতিমধ্যে প্রমাণিত। সবাই চট্টগ্রামের উত্তর জেলার মতো হতে চায়। এক পরিবারে সবাই রাজনীতিবিদ কিন্তু উত্তর জেলার   নেতারা উচ্চ শিক্ষিত ছিল। এরা স্কুলের গণ্ডি পার হয়েছে কিনা সন্দেহ তবুও তারা ছিলো বড়লোক বাবার ছেলে তাই অভাবী ছিল না। এখন গোবর ব্যাবসায়ীরা মানুষের পকেট ছাড়া কিভাবে রাজনীতি করবে? তাদের সম্পদের হিসাব দুদকও বিস্মৃত  হতে পারে।
 উল্লেখ্য তারা তো আর বামপন্থী নয়। স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিশ্রী দলাদলীর কী মানে হতে হতে পারে। একটা পরাজয় নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটানোর কি দরকার? দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে ভালো কথা কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী হতে যদি নিষেধ  না থাকে তবে এত কথা কিসের। রাজনীতির নতুন শিক্ষা। অন্তঃসার শূন্য অজনপ্রিয় প্রার্থীর হাতে দলীয় প্রতীক দিলে বারোটা বাজবে। এখন তেরোটা বাজার অপেক্ষায়। পরাজিত প্রার্থীকে মাঠে কিংবা দলে টিকিয়ে রাখার জন্য মহা তগলকী কান্ডের অবতারণা।
একতরফা তৃণমূল কাউন্সিল তার মনমতো না হলে তৃণমূল কর্মীকে দলীয় কর্মী হিসেবে অস্বীকার করা তাকে  হুমকি দিয়ে সাইট লাইনে পাঠিয়ে দেয়া। এর ফাঁকে বিরোধী  দলীয় কর্মীকে দলে পূর্ণবাসন অযোগ্য  মতলববাজদের নেতা বানানো, সার্বজনীনতাকে বিসর্জন দেয়া, ত্যাগী কর্মীদের মামলার হুমকি দেয়া, অপমানিত করা ইত্যাদি ইত্যাদি কান্ড ঘটানো। এসব দেখে মনে হচ্ছে ১০-১২ জন তালুকদারকে তালুক প্রদান করা। একদিকে নিজ দলের  সাধারণ কর্মীদের হৃদয় ভাঙ্গা, অন্যদিকে টাউট বাটপারদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি এমন করতে করতে একদিন দূরবীন দিয়ে দেখতে হবে কর্মী দেখা যাবে কিনা।
হে রাজা এভাবে একদিন আপনি থাকবেন কিন্তু প্রজা থাকবেনা । যারা থাকবেন  তারা আপনার সাথে অভিনয় করবে অনুগত্য করবে না। সবকিছুর উপর জনগণ নিজেদের নিয়ে এসব কাজে লিপ্ত থাকলে দেশ- জাতি কোথায় যাবে ভেবে  দেখছে? রাজনীতিতে মান অপমান আছে থাকবে এসব তো রাজনীতির অলংকার।  কবে অপমানিত হয়েছেন তার জন্য জনতার চাওয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালে পক্ষান্তরে জনতাকে  অপমান করা হয়। আপনি সাময়িক তখতে আছেন ঠিকই কিন্তু হাজারো জনতাকে অপমানিত করার অধিকার আপনার নেই। যদি মনে করেন আপনার আছে তবে বোকার স্বর্গে আছেন। আপনি অনেক পেয়েছেন বলেন আর কি পাবার আছে? আপনাকে নেতা বানাতে অনেকেই অপমানিত হয়েছেন, অনেকেই ঝুঁকি নিয়েছেন দয়া করে তাদের কথা ভাবুন। তারা কোন কালে আপনার কাছে কিছুই চাইতে যাবে না কারণ তারা লোভী নয়। আপনার চারপাশে ঘুরঘুর করা লোক গুলো স্বর্থপর স্বার্থের জন্য ঘুরে। যে আপনাকে কখনো না বলতে পারবে না আপনার সামনে সত্য বলতে পারবে না, তারা আপনাকে ভালবাসতে পারে না। যে অভিমান জানে না সে ভালবাসতে জানে না। তাই আপনার কাজ অভিমানীদের  কাছে যান অভিমান ভাঙ্গান। তবে আপনি যদি চরম ইগু সম্পন্ন লোক হন তবে তার দরকার নেই। দুই হাত প্রসারিত করে বুকটা প্রশস্ত করে জনতাকে নিবেদন করুন। তবেই তো ভেসে উঠবে আগামীর সমৃদ্ধির আকাশ। কী- আমাদের কথা রাখবেন না? জনগণকে শিল্পী হতে দিন। আপনি পারেন তাদের সৃজিত শিল্পকে সমাদর করতে। তাইতো আপনি জনতার।
 বৈঠকখানার রাজনীতি বীদদের বেশি বিশ্বাস করলে ঠকবেন।  একটু খোঁজ নেন তারা কোন খালতে আছেন। শুনেছি স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা আপনার পরিবারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। স্বার্থ উদ্ধারের পর নানা জপ অশুভ টিপ্পনী কাটে এসব কিন্তু মাঠে ময়দানে বদনামীর তুল্য। যার মানে সামনে প্রশংসা পিছনে কুৎসা। তাই আমরা চাই আপনি একজন সফল জন নেতার মতো বেচে থাকুন। কারণ আপনি আমাদেরই ত্যাগের ফসল। আপনি আমাদের, কারো একার নন। একটু বেশি বলছি কারণ আপনার সুনামের সাথে আমাদের সুনাম জড়িত।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*