Main Menu

নজরুলের বাঘা যতীন

ড. রকিবুল হাসান

ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র মহানায়ক বিপ্লবী বাঘা যতীন। আর কলমে গণ-জাগরণ তৈরির মহানায়ক কাজী নজরুল ইসলাম। এ দুই মনীষীর অবদান অবিশ্বাস্য রকম। দুজনের নামই আকাশ-সমান উঁচু। বাঘা যতীনের জন্ম ১৮৭৯ সালের ৮ ডিসেম্বর, মৃত্যু ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১৫।

নজরুলের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, মৃত্যু ২৯ আগস্ট ১৯৭৬। দুজনের বয়সের ব্যবধান প্রায় বিশ বছর। নজরুলের যখন জন্ম বাঘা যতীন তখন দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করার প্রত্যয়ে গোপন-আন্দোলনে পুরোপুরি যুক্ত। নজরুলের বয়স যখন মাত্র ১৬ বছর, যুগান্তর দলের প্রধান বাঘা যতীন তখন ব্রিটিশদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ করে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নিজের শরীরের ব্যান্ডেজ নিজে হাতে ছিঁড়ে আত্মাহুতি দেন।

এ মৃত্যুতে গোটা ভারতবর্ষ শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, বিপ্লবী ভূপেন্দ্রকুমার দত্তসহ বিখ্যাত ব্যক্তিরা এ মৃত্যুতে গভীর শোকাভূত হয়েছিলেন। নজরুল ইসলামের মনেও এ মৃত্যু ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে বাঘা যতীন এবং তার বীরত্বপূর্ণ মৃত্যু নিয়ে নজরুল তার বিখ্যাত কবিতা ‘নব-ভারতের হলদিঘাট’ রচনা করেন। ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসের বজ পাণি চরিত্র বাঘা যতীনের চরিত্র অবলম্বনে তৈরি করেন।

ধূমকেতুতে বাঘা যতীনের ছবি দুবার ছেপেছিলেন। ভারতবাসীর কাছে বাঘা যতীনের এ মৃত্যু ছিল গৌরব ও অহঙ্কারের। বাঘা যতীনকে নিয়ে অনেক কবি-সাহিত্যিক সাহিত্য রচনা করেছেন। নাটক-সিনেমা তৈরি করেছেন। কিন্তু বাঘা যতীনকে নিয়ে নজরুলের সাহিত্য বিশেষভাবে গুরুত্বের দাবি রাখে।

নজরুল ইসলাম তার ‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় অষ্টম সংখ্যায় বাঘা যতীনের একক ছবি পৃষ্ঠাজুড়ে ছেপেছিলেন। একটি প্রবন্ধে বাঘা যতীন সম্পর্কে তিনি লেখেন ‘বাঙলার বিপ্লব-যুগের প্রথম সেনানায়ক- পুরুষ সিংহ, যতীন্দ্রনাথ’। ১২তম সংখ্যায় তিনি অন্যান্য বিপ্লবীদের ছবির সঙ্গে বাঘা যতীনের ছবি আবারও ছাপেন। বাঘা যতীনের প্রতি নজরুলের যে কী অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা ছিল, এটা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

নজরুলের তৃতীয় উপন্যাস কুহেলিকা। এটিকে বিপ্লবী উপন্যাস হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। কুহেলিকায় প্রমত্ত’র নেতা বজ পাণি যে চরিত্রটি পরোক্ষভাবে উপন্যাসে উপস্থিত, তার মধ্যে বাঘা যতীনের চরিত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও আরও কিছু চরিত্রের মধ্যে বাঘা যতীনের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের পরিচয় ফুটে উঠেছে। নজরুলের বিপ্লবী জীবনে বাঘা যতীনের প্রভাব যে স্পষ্ট তা তার কবিতাতেও লক্ষণীয়।

নজরুলের প্রলয়-শিখা কাব্যগ্রন্থে ‘নব-ভারতের হল্দিঘাট’ কবিতাটি বাঘা যতীনের বীরত্বগাথাকে কেন্দ্র করে রচনা করেছিলেন। ব্রিটিশ-বাহিনীর সঙ্গে বীরত্বপূর্ণ এবং প্রথম সম্মুখযুদ্ধ করে বাঘা যতীনের আত্মাহুতিদানের মাধ্যমে ভারত-স্বাধীনতা যে মহাকাব্য রচিত হয়েছিল, তার ভেতর ফুটে উঠেছিল নতুন এক ভারতের স্বপ্ন-বীজ, যার অঙ্কুরোদগম ঘটে বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে। কাজী নজরুল ইসলামের মনে বিপ্লবী বাঘা যতীনের বীরত্বপূর্ণ আত্মাহুতি ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

এ কারণে নজরুল তার উপন্যাসেও বাঘা যতীনকে গ্রহণ করে থাকতে পারেন এটি খুবই স্বাভাবিক। আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ-যুদ্ধে যাওয়ার আগে নজরুল বিপ্লববাদী যুগান্তর দলের যোগাযোগে এসেছিলেন তার শিক্ষক নিবারণ ঘটকের সান্নিধ্য লাভ করে। যুগান্তর দলের প্রধান নেতা ছিলেন বিপ্লবী বাঘা যতীন।

তিনি ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট বিপ্লবী দলগুলোকে একত্রিত করে যুগান্তর দল গঠন করে তার নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। যুগান্তর নামে একটি পত্রিকা ছিল। সেই পত্রিকাটি ছিল বিপ্লবীদের কর্মকাণ্ডের মূলকেন্দ্র। ‘যুগান্তর নামে দৈনিক সংবাদপত্রে স্বাধীনতার মর্মবাণী প্রসারের ব্যবস্থা করেন স্বামী বিবেকানন্দের অনুজ ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায়। পত্রিকাটির নামকরণেই যুগান্তর দল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।

এর আগে অনুশীলন সমিতির মাধ্যমে বিপ্লবীরা তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, অনুশীলন সমিতি অবৈধ ঘোষণা করার সময় যতীন ও নরেন যুগান্তরে কাজ করতেন।

আলিপুর মামলার সময় যতীন-নরেন যুগান্তর গ্রুপের পরিচালকরূপে পরিচিত হন। এ পরিচয় হতেই পরবর্তীকালে যুগান্তর সমিতি অনুশীলন সমিতির উত্তরাধিকার হয়। এর একটি বড় কারণ ছিল সে-সময় বিপ্লবী নেতারা বিশেষ করে বাঘা যতীন ও এমএন রায় অনুভব করেন বিপ্লবী শক্তিকে একক নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ করতে হবে। বিপ্লবীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সেই শক্তিকে গোটা ভারতে সম্প্রসারিত করতে হবে।

আত্মত্যাগী বিশ্বস্ত বিপ্লবী তৈরি করতে হবে এবং বিপ্লবের মূল উদেশ্যের কথা ভারতবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ কঠিন দায়িত্বটি গ্রহণ করেন বাঘা যতীন। আর বাঘা যতীনের ডান হাত হিসেবে তার পাশে দাঁড়ান এমএন রায়। এরা জার্মানি থেকে অস্ত্র এনে ভারত স্বাধীন করার পরিকল্পনা করেন। সে-মোতাবেক কাজও করেন। জার্মান গিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছিলেন।

জার্মানি থেকে আসা ম্যাভেরিক জাহাজ-ভর্তি অস্ত্রের ব্যাপারটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বাঘা যতীনরা অস্ত্র খালাস করতে পারেননি। খালাসের আগেই অপরিকল্পিত এক সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয় বাঘা যতীনদের।

সে যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ বাঘা যতীন এক দিন (৯ সেপ্টেম্বর গুলিবিদ্ধ হন, মৃত্যুবরণ করেন ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১৭) পরই মৃত্যুবরণ করেন। নজরুল কুহেলিকাতে লিখেছেন, ‘বিপ্লবীদের সেই ভীষণ জার্মান-ষড়যন্ত্র প্রকাশ হইয়া পড়িয়াছে। সারা দেশ ব্যাপীয়া পুলিশ জাল ফেলিয়াছে।’

বজ পাণি ও প্রমত্ত দুটি চরিত্র বাঘা যতীন ও এমএন রায়ের চরিত্র অবলম্বনে সৃষ্টি, তা এখন অনুমেয়। নজরুল বাঘা যতীনের বিপ্লবী কর্মকাণ্ড দ্বারা যে প্রভাবিত হয়েছিলেন তা তার সাহিত্যে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। ভারতমাতাকে মুক্ত করার জন্য বাঘা যতীন ও এমএন রায় যে সশস্ত্র বিপ্লবী প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, কুহেলিকার বজ পাণি এবং প্রমত্ত-র ভেতর তা লক্ষণীয়।

বজ পাণি আর প্রমত্তর সম্পর্ক ও বিপ্লবী কর্মপন্থা ছিল বাঘা যতীন আর নরেনের অনুরূপ। প্রমত্ত বিপ্লবী কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও আন্দোলনকে সংগঠিত করার লক্ষে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের লেবাস গ্রহণ করতেন।

অসংখ্য ভাষাতেও কথা বলতে পারতেন। অন্য দেশে গিয়েও সে দেশের মানুষের মতো হুবহু নিজেকে তৈরি করে নিতে পারতেন এবং সে দেশের ভাষা তাদের মতো করে বলতে পারতেন। সে কারণে তিনি যে ভিন দেশি এটা বোঝা মুশকিল ছিল।

তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন দেশে নানাভাবে চেষ্টা করা সত্ত্বেও তার বহুরূপী রূপ বারবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে যেতে পেরেছে। যেটি শরৎচন্দ্রের সব্যসাচী এবং নজরুলের প্রমত্তর ভেতর লক্ষণীয়। অনেকে এ ক্ষেত্রে নিবারণ ঘটকের পক্ষে।

কিন্তু বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রমত্তর চরিত্র অঙ্কনে চরিত্রকাঠামো-বিন্যাস-ভাষাদর্শী-বহুরূপ-বহু নামধারী ও রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন দেশ পরিভ্রমণ- এসব বিচারে এমএন রায়ের চরিত্রই প্রমত্ত চরিত্র নির্মাণে প্রভাব রেখেছে। প্রমত্তের নেতা বজ পাণি, ফলে এমএন রায় প্রমত্ত হলে বজ পাণি নিঃসন্দেহে বাঘা যতীন।

আরও একটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করা যেতে পারে, পিণাকীর ফাঁসির ঠিক আগ-মুহূর্তে ম্যাজিস্ট্রেট তৎক্ষণাৎ টুপি খুলে তাকে যে অভিবাদন জানিয়ে বলেছিল, ‘আমি তোমায় প্রণাম করি বালক! মৃত্যু-মঞ্চই তোমার মতো বীরের মৃত্যুঞ্জয়ী সম্মান। তোমার মত বীরের বন্দনা করবার সম্মান জীবনের নাই।’ বাস্তবে তা পরিলক্ষিত হয় বাঘা যতীনের ক্ষেত্রে।

বাঘা যতীনের মৃত্যুর আগ-মুহূর্তে চার্লস টেগার্ট তাকে বিচলিত কণ্ঠে বলেছিল, Tell me Mukherjee, What can I do for you? বাঘা যতীনের মৃত্যুর পর চার্লস টেগার্ট মাথার ক্যাপ খুলে তাকে স্যালুট করে বলেছিলেন, ‘I have high regard for him. I have met the bravest Indian, but I had to perform my duty.’ বাঘা যতীনের বিপ্লব-পন্থা ও মৃত্যু এ উপন্যাসে নানাভাবে পরিগৃহীত হয়েছে তা অনুমান করা যেতে পারে।

নজরুল তার অবিশ্বাস্য আত্মদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা অর্পণ করে রচনা করেছিলেন, ‘নব-ভারতের হলদিঘাট’ নামক বিখ্যাত কবিতা। ‘প্রলয়-শিখা’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত এ কবিতাটি। দুর্ভাগ্যক্রমে, এ দেশে বাঘা যতীনের মতো বিখ্যাত বিপ্লবী যেমন মূল্যায়িত হননি, এ রকম এক মহান বিপ্লবী সাধারণ মানুষের জানাশোনারই বাইরে রয়ে গেছে, তেমনিভাবে নজরুলের এ বিখ্যাত কবিতাটিও প্রায় একই করুণ পরিণতি বহন করেছে।

ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের মহানায়ক বিপ্লবী বাঘা যতীন। বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে ১৯১৫ সালে ৯ সেপ্টেম্বর বিশাল ব্রিটিশ-বাহিনীর সঙ্গে বাঘা যতীন মাত্র চারজন কিশোর সহযোদ্ধা নিয়ে যে অসম সম্মুখযুদ্ধ ঘটান তা ছিল গোটা ভারতবর্ষের স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে অভিনব এক ঘটনা।

এ যুদ্ধে বাঘা যতীন বগলে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হন। বালেশ্বর হাসপাতালে নিজের শরীরের সব ব্যান্ডেজ নিজে হাতে ছিঁড়ে তিনি ১০ সেপ্টেম্বর আত্মাহুতি দেন। এ-মৃত্যুর ভেতর দিয়েই রচিত হয় ভারতমাতার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র।

বাঘা যতীন চার্লস ট্রেগাটের নেতৃত্বাধীন বিশাল ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে অসম সম্মুখযুদ্ধ করে ভারত-স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি যে মহাকাব্য রচনা করেছিলেন, সে দিনের ১৬ বছরের তরুণ নজরুলের মনে তা অগ্নিমশাল জ্বালিয়ে দেয়। তার রক্তে জ্বলে ওঠে আগুন।

ব্রিটিশ-বাহিনীর সঙ্গে বীরত্বপূর্ণ এবং প্রথম সম্মুখযুদ্ধ করে বাঘা যতীনের আত্মাহুতিদানের মাধ্যমে ভারত-স্বাধীনতা যে মহাকাব্য রচিত হয়েছিল, তার ভেতর ফুটে উঠেছিল নতুন এক ভারতের স্বপ্ন-বীজ, যার অঙ্কুরোদগম ঘটে বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে। কাজী নজরুল ইসলামের মনে বিপ্লবী বাঘা যতীনের বীরত্বপূর্ণ আত্মাহুতি ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

তার গৌরবগাথা এ আত্মাহুতি বারুদের মতো ভয়াবহ কবিতা হয়ে ওঠে বিদ্রোহী কবির কলমে। নজরুলের ভেতর এই বিশ্বাস গ্রোথিত হয়েছিল যে, বালেশ্বরের বুড়িবালামের তীরে ব্রিটিশ-বাহিনীর সঙ্গে বাঙালি বিপ্লবীদের যে প্রথম সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হল, এর মাধ্যমেই ভারতের স্বাধীনতা-অর্জনে হলদিঘাট হিসেবে পরিগণিত হতে পারে এ বুড়িবালাম নদীর তীর।

এ কারণেই নজরুল বাঘা যতীনের মরণ-যুদ্ধের এ স্থানটিকে নব-ভারতের হলদিঘাট বলে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, ১৭৫৭ খ্রি. সম্রাট আকবরের সৈন্যের বিরুদ্ধে রানা প্রতাপসিংহের প্রবল যুদ্ধ হয়। সে-যুদ্ধে মেবারের রানা প্রতাপসিংহ পরাজিত হন। পরে প্রতাপসিংহ আবার যুদ্ধ সংঘটিত করে তার হারানো রাজ্যের অনেকখানি উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

কবি স্পষ্ট করে বলেছেন হলদিঘাট থেকে নতুন ভারতের যাত্রা শুরু ‘দৈত্যপুরীর প্রাসাদে’ ‘বজ পাত’ ঘটানোর মাধ্যমে। আর এ বজ পাত ঘটল ‘শ্মশান মৃত্যু-নাট’ উৎসবে। আর এ মৃত্যু-উৎসবের নায়ক বাঘা যতীন ও তার সঙ্গী চিত্তপ্রিয়, মনোরঞ্জন, নীরেন।

উল্লেখ্য, কবিতায় তিনজন যুদ্ধসঙ্গীর উল্লেখ আছে, জ্যোতিষের নাম উল্লেখ নেই। জ্যোতিষও এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বাঘা যতীনকে নজরুল অভিহিত করেছেন ‘নবীন প্রতাপ নেপোলিয়ন’ অভিধায়। এসব যুদ্ধসঙ্গীরা বয়সে বালক, কিন্তু তাদের সাহস ব্যাঘ্রতুল্য। ব্যাঘ্র সাহসী এ চার বালককে নিয়ে ৩৫ বছরের তরুণ বাঘা যতীন বালেশ্বরের যুদ্ধে প্রথম ‘স্বাধীন-ভারত-মন্ত্র পাঠ’ করেন। এরা চার হাজার ব্রিটিশ-সৈন্যের সঙ্গে মরণযুদ্ধ করে ভারতমাতার সন্তানদের কাছে বলে গেলেন, ‘রক্ত সোপানে’ আরোহী হয়ে পরাধীনতার পাপ মুছতে।

‘নব-ভারতের হলদিঘাট’ অন্তর্ভুক্ত কাব্য ‘প্রলয়-শিখা’ প্রকাশিত হয় আগস্ট ১৯৩০, ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয় ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩০, নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা হয় একই বছরে ১১ ডিসেম্বর। এরপর ৬ মাসের কারাদণ্ড। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৩০ সালে নজরুলের জামিন লাভ এবং আপিল।

১৯৩১ সালের ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত গান্ধী-অরউইন চুক্তির ফলে সরকার পক্ষের অনুপস্থিতিতে ৩০ মার্চ ১৯৩১ কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে মামলা থেকে অব্যাহতি লাভ করেন। কিন্তু ‘প্রলয়-শিখা’ নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর। অর্থাৎ ১৯৪৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*