Main Menu

দালালরাই সাংবাদিকতা পেশাকে বারোটা বাজাচ্ছে!

এম, রিদুয়ানুল হক
“দালাল” শব্দটির সাথে আমাদের কম-বেশি পরিচয় রয়েছে। দালাল শব্দটির অর্থ তেমন কুৎসিত না হলেও, মারাত্মক বিষাক্ত। এমন বিষাক্ত যে, আর্সেনিকযুক্ত পানির মতো ফুটালেও বিষমুক্ত হয় না। যার ফলাফল একমাত্র ক্যান্সার।

দেশের সব জায়গায় ও সবপেশায় দালালদের কম-বেশি পদচারণা রয়েছে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দালালদের পদচারণা রয়েছে সাংবাদিকতা পেশায়। বর্তমানে নতুন নতুন পত্রিকার আবির্ভাব যেমন ঘটছে, তেমনি নতুন নতুন অশিক্ষিত-মূর্খ সাংবাদিকদের সংখ্যা বাড়ছে। যার কারণে খুনি, মাদক ব্যবসায়ী, ইয়াবা ব্যবসায়ী, চোর, ডাকাতসহ যে কেউ এ পেশায় প্রবেশ করছে। পৃথিবীর একমাত্র বাংলাদেশেই সাংবাদিকদের জন্য প্রেক্টিকেললি কোন আইন নেই। যা আছে সবই খাতা-কলমে।

বর্তমানে প্রেস কার্ডের আড়ালে কিছু দালালচক্র সরকারি-বেসরকারি অফিসে গিয়ে নিজেদেরকে মহা সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে যতসব অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এইসব দালাল, প্রতিনিয়ত দালালী করেই চলছে। শুধু দালালী নয়, নিরহ সাংবাদকর্মীদের ব্যাপারে আবোল-তাবুল মন্তব্য করে আমলাদের কান ভারি করছে। এই দালালদেরকে বাহবা দিচ্ছে দেশের নামি-দামী পত্রিকার স্বল্প সংখ্যক সাংবাদিক। যার কারণে তাদের অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলছে। এইসব দালালদের কারণে আজ পথে পথে লাঞ্ছিত হচ্ছে আসল সাংবাদিকরা।

বর্তমানে দেশের প্রতিটি আস্তানায় হানা দিচ্ছে এই দালাল চক্র। এইসব দালালরা প্রতিমুহুর্তে নিজেদের চেহারা পরিবর্তন করে কিছুক্ষণ রাজনৈতিক নেতা, কিছুক্ষণ ব্যবসায়ী, কিছুক্ষণ সরকারি কর্মকর্তা আবার কিছুক্ষণ সমাজের বিখ্যাত মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের পেছনে ঘুরে ঘুরে কোনো মতেই তারা টিকিয়ে রয়েছে। তারা মনে করে অন্যরা কোনো সাংবাদিক নয়। আসল কথা হলো- এইসব চক্র কোনো নিউজ করা তো দূরের কথা, একটি শব্দও শুদ্ধ করে লিখতে এবং বলতে পারে না।

বর্তমানে কিছু নামি-দামী পত্রিকার সাংবাদিকরাও এই চক্রের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং সহযোগিতা করছে। এসব কথা ওঠে এসেছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মুখ থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সরকারী কর্মকর্তা জোরগলায় বলেছেন- ২/৩ জনের গ্রুপ করে কিছু সংবাদকর্মী আমাদের অফিসে এসে অযৌক্তিক টাকা দাবী করে এবং অন্যান্য সংবাদকর্মীদের ব্যাপারে সর্বদা নেগেটিভ মন্তব্য কর থাকে। তারা বলে – আমরা অমুখ অমুখ পত্রিকার প্রতিনিধি। আমরা ছাড়া অন্যান্যরা সবাই ভূঁয়া সাংবাদিক।

বর্তমানে এইসব দালালরাই সাংবাদিকতা পেশাকে বারোটা বাজাচ্ছে। আসল সাংবাদিকতা পেশাকে লাঞ্ছিত করছে। শিগগিরই এর সমাধান হওয়া উচিৎ।

সাংবাদিকতা পেশায় যতদিন শিক্ষিত মানবের পদচারণা হবে না, ততদিন দালালদের তৎপরতা কমবে না। এই জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নাই। আসুন, দালাল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি এবং তাদের পদচারণার চিহ্ন ধ্বংস করি।

লেখক- শিক্ষক, সাংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*