Main Menu

তবেই বুঝবো আপনি ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির

সাইফুল ইসলাম বাবুলঃ 

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুনামি চলছে। তবে সুনামির ঢেউ কোন ভালো লোককে আঘাত করছে না। মন্দের টিলা টংকর সমান করে বয়ে যাচ্ছে। তাই একটু আড়াল থেকেই ঢিল ছুটার প্রতিযোগিতা চলছে। যখন কেউ কিছু করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন হলো মুক্তিযুদ্ধা ছিলো এমন কেউ যদি বাংলার অত্যাচারের কথা বেমালুম ভুলে রাজাকারের জয়গান গায় তবে কি তাকে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ধারী বলা যাবে? নিশ্চয় না। আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী কেউ যদি সারাক্ষণ দেশের অকল্যাণে ব্যস্ত থাকে, তাকে শৃগালের চামড়া পরিহিত নেকড়ে ছাড়া কি বলা যায়?

 

এবার আসুন নেকড়ে প্রসঙ্গেঃ-

এক নেকড়ে ৫ম পাশ। পাড়ায় কেউ পড়ে নাই বলে সে মাস্টার। এতো পড়ালেখা জানা লোককে পাড়ার সবাই সমীহ করে। এত পড়ালেখা জানা লোককে পাড়ার সবাই ভোট দিয়ে মেম্বার বানালো। সে সুযোগে থানায় আসা-যাওয়া গ্রামে বসে শুরু দালালি, মামলার কুপরামর্শ, ফন্দিফিকির, ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া লাগানো ওয়ালা, দখল-বেদখল, পেশিশক্তি জোট সরকারের সময় সব ভাই ও আত্মীয়দের সরকারী দলে ধার দেন, নিজেকে নিরাপদ করার জন্য চাঁদাবাজী, দখলবাজি, নারী হরণ সব করে প্রচুর টাকার মালিক। শুনেছি অন্যের নামে ব্যাংক লোন নিয়ে দাইকের ঘাড়ে কর্জ, টাকা খেয়েছেন তিনি।  ওয়াপদার জমি প্লটে বিক্রি, খাস জমিতে ঘর করে মহান নেতা, তবে রোহিঙ্গাদের মতো অনেক স্ত্রীর অধিকারী। এমনকি দুটা আলিশান বিল্ডিং এর মালিক ব্যবসা নাই এতো টাকা কোথা থেকে এলো?  নির্বাচনের আগে বিএনপি থেকে সবাইকে আওয়ামী লেবাস পডালো, অতীতে তার পরিবারের সবাই বিএনপি করতো। ফন্দি ফিকির করে নেতা বাগিয়ে বিএনপির লোকদের কাউন্সিলর করে নিজে ইউনিয়ন সভাপতি হলেন। এখন ছডাও আওয়ামী পরিবারের উপর নির্যাতন সারাক্ষণ নেতাদের কানে ফিস ফিস, নির্বাচন আসলে ভোট বিক্রির এজেন্ট বনে  উভয় পার্টি থেকে টাকা খায়। মিথ্যা মামলার ব্যবসা তার সর্বশেষ্ঠ ব্যবসা। সে কিনা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায়।

 

নেকড়ে ২ ঃ –

সাত লাখ টাকায় পোস্ট  ক্রয়কারী যে কিনা শ্রমিকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। রাস্তা দখল, গাড়ির লাইন বিক্রি, দখলের ভাড়াটিয়া, রিক্সা, সিএনজি, অটো প্রভৃতি যানের উপর ট্যাক্স প্রবর্তনকারী তিনি কিনা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায়।

 

নেকড়ে ৩ ঃ-  

আমাদের পেকুয়ায় ভাগ্যবান লোকদের বলা হয় ছাদিক্কা মার কোয়াল, তিনি সেই কপাল নিয়ে জন্মেছেন। বিদেশ ভ্রমণ, পদ বিক্রি, প্রশাসনিক দালালি, বিএনপি-জামাতের ঘর তৈরীর কারবারী, জামাত শিবির থেকে উপঢৌকন নিয়ে চালা ব্যক্তি দলের বড় পোস্টের বদৌলতে এখন ত্যাগী কর্মী। ডাকাতি করে জেল খাটলে নির্যাতিত নেতা বনে যান। জমিদারের হাইল্যা ও মিনি মন্ত্রী তার অবস্থাও সেরকম। তার আত্মীয়-স্বজন এখন ব্রিটিশ পেয়াদার মতো , মনে হয় সব কিছু খাবে একটু ভাবুন এতো বাড়ি গাড়ি কোথা থেকে আসলো।

 

আবার লাইনে আসি সম্প্রতি পেকুয়ায় কমিউনিটি পুলিশের কমিটি হয়ে গেলো, আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন। ঐ কমিটি নিয়ে অনেক কথা যথাযথ কমিটি হয়নাই বলুনতো কিভাবে যথাযথ হয়। কি কামাল সাহেব? তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয়, অকুতোভয়, নির্লোভ পেকুয়ার জঞ্জাল ভাঙ্গার নেতৃত্ব তিনিই দিয়েছেন। যারা বলেন তাদের কামাল সাহেবের কাছে অনেক শিখার আছে। জান তার কাছে গিয়ে কিছু শিখুন।

 

 আরেকজন মগনামার চেয়ারম্যান ওয়াসিম আপনারা বলেন তিনি অনেক খারাপ লোক। প্রশ্ন হলো পা চাটা কুকুরের মতো তার আঙ্গিনার চারিদিকে ঘুরঘুর করছেন কেনো? তার টাকায় দলীয় কর্মসূচি  ঢাকা যাবার খরচ, ঈদের নতুন কাপড়, ঘর সাজানো, ঘরোয়া অনুষ্ঠান পালন, দলবলে গিয়ে অন্য দল থেকে নিয়ে আসার প্রতিযোগিতা করেছেন। নিজেদের যখন কোন ধরনের পারদর্শিতা ছিলনা তার থেকে ধার নিয়েছেন। সে নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং এস আলম গ্রুপের স্থানীয় গার্ডিয়ান সেটা তার যোগ্যতা বলে নিয়েছেন তাই তার ধারে কাছে কডি উড়ে আপনারা কডির লোভে তার পা চাঠছেন। এতোদিন কোথায় ছিল  কালোবাজারী, ইয়াবা কারবারী,  মীর কাসেমের সহযোগী এসব কথা সে যখন ই কিছু করতে যাচ্ছে তখনই শুরু হলো আড়ালে অবডালে থেকে ঢিল ছোড়াছুড়ি। সে কোন মানুষকে বঞ্চিত করে কিছু করছে না, তার ইউনিয়ন প্রশাসনে সবকিছু সুন্দর চলছে যেইমাত্র কোন পদ পেল তখনই এইসব ভানুমতির খেল। এতোদিন তাকে খেয়েছেন, খেতে খেতে এখন কি অতিভোজনের অনিহা? কথাগুলো মনে হয় তার পক্ষে বলছি কখনোই না আপনাদের মতো সুবিধার মাঝিদের একটু টিপ্পনী কইলাম কিছু মনে নিয়েন না। আইন-শৃঙ্খলা, মিটিং কিংবা পত্রিকায় বিবৃতি না দিয়ে তার দয়ায় যে ব্যবসা করছেন তা বর্জন করুন তার থেকে নিয়মিতো দয়া দাক্ষিণ্য নেয়া ছেড়ে দেন  “তবেই বুঝবো আপনি ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির।”






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*