Main Menu

ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫০ হাজার

বিবিসিএকাত্তর ডেস্কঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৭১৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজারে পৌঁছল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন।

এর মধ্যে মারা গেছেন ৪০ জন। তবে গণমাধ্যমের হিসাবে এ মৃত্যুর সংখ্যা ১৩০। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিয়েছেন এমন রোগীর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ হতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন ও কন্ট্রোল রুম। ঢাকার ১০টি সরকারি ও ৩০টি বেসরকারি হাসপাতালসহ ৪০ প্রতিষ্ঠান থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করে।

এসব হাসপাতালের বাইরে সারাদেশের ৬৪টি জেলা সিভিল সার্জনদের অফিস থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে কন্ট্রোল রুম। কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) সারাদেশে ১ হাজার ৭১৯ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে রাজধানীতে ৭৫৯ এবং রাজধানীর বাইরের রয়েছেন ৯৬০ জন। এর মধ্যে এপ্রিলে ২, জুনে ৪, জুলাইয়ে ২৪ এবং আগস্টে ১০ জন। তবে হাসপাতালগুলোর মৃত্যুর তথ্যমতে এ সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি, যা প্রকাশ করছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৯৯৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে মাসে ১৯৩, জুনে ১ হাজার ৮৮৪, জুলাইয়ে ১৬ হাজার ২৫৩ এবং আগস্টে ৩১ হাজার ৫৩৮ জন।

এসব রোগীর মধ্যে ৪২ হাজার ২৪৩ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং বাকি ৭ হাজার ৭১৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর ৮৪ শতাংশ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর বাইরে ৮টি বিভাগের ৬৪ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৮ হাজার ৬০৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ঢাকা বিভাগে ৪ হাজার ৭১০, চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৬২৩, খুলনায় ২ হাজার ৭০৯, রংপুরে ১ হাজার ২৪৩,

রাজশাহীতে ২ হাজার ৯৬, বরিশালে ২ হাজার ২৮৯, সিলেটে ৫৭২ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ হাজার ৩৬২ জন। রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোয় এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৯০২ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং বর্তমানে ৩ হাজার ৭০১ জন চিকিৎসাধীন।

এদিকে ডেঙ্গু রোগী এক দিন বাড়ছে আবার আরেক দিন কমছে। গতকাল শুক্রবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পর্যালোচনাসভা আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা জানান, আগের দিনের তুলনায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা যথাক্রমে ৬ এবং ২ শতাংশ কমেছে। হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত ৮৪ শতাংশ রোগী ছাড়া পেয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতাল নিজস্ব উদ্যোগে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে।

রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্যমতে, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের ৬৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৩ শতাংশ নারী। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫-২৪ বছর বয়সীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এর পরই আছে ২৫-৩৪ এবং ৫-১৪ বছর বয়সীরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে রাজধানীর বেশকিছু এলাকার ৮০ শতাংশ, কিছু এলাকায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং কিছু এলাকায় ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পাত্রে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। যা আগামীতে ডেঙ্গু ছাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা।

রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার এ জরিপকাজ রাজধানীব্যাপী ছিল না। কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এটি চালানো হয়। জরিপে যেসব এলাকার ৮০ শতাংশ পাত্রে এডিস লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, সেটি ভালো খবর নয়। কারণ যেখানে লার্ভা পাওয়া গেছে, সেখানে এডিসের ডিমও থাকবে। আগামী মাস থেকে হয়তো বৃষ্টি কমতে থাকবে। বৃষ্টি কমলে ডেঙ্গুর প্রকোপও কমবে। কিন্তু এডিসের ডিম পানি ছাড়াও দীর্ঘ সময় বাঁচতে পারে। এ ডিমগুলো আবার যখন বৃষ্টির পানির স্পর্শে আসবে তখনই ফুটবে। ফলে আগামী মৌসুমে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। আর যদি বছরের অন্য সময় বৃষ্টি হয় তখন ডিম থেকে এডিস মশা তৈরি হতে পারে। এতে বছরজুড়ে কম-বেশি ডেঙ্গু সংক্রমণ হতে থাকবে।

জানা গেছে, রাজধানীতে এডিস মশা ও এডিস লার্ভার উপস্থিতি যাচাই করতে জরিপ চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। গত ৩১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত কীটতত্ত্ববিদের ৪টি দল রাজধানীর ১৪টি এলাকার বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, মেট্রোরেল প্রকল্প, পুলিশ লাইনস, হাসপাতাল ও বস্তি এলাকায় এ জরিপ পরিচালনা করে। জরিপ শেষে গত ১১ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা গেছে, রাজধানীর বেশকিছু এলাকার ৮০ শতাংশ, কিছু এলাকায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং কিছু এলাকায় ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পাত্রে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার এক কর্মকর্তা বলেছেন, জরিপটি ছিল আমাদের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ। এবারের জরিপের জন্য এমন জায়গা বেছে নেওয়া, যেখানে একটা এডিস মশা অনেক মানুষকে একসঙ্গে কামড়াতে পারে এবং এ রোগ ছড়াতে পারে। সেটা যাচাই করতে রাজধানীর বাস টার্মিনাল, মেট্রোরেল এলাকা, হাসপাতাল ও বস্তিসহ জনবহুল এলাকায় জরিপ চালানো হয়। জরিপে অনেক জায়গায় বিআই-ব্রুটো ইনডেক্স (মশা পরিমাপের সূচক) ২০-এর বেশি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এসব জায়গায় ১০০টির মধ্যে ২০টি পাত্রে লার্ভা পাওয়া গিয়েছে। কোথাও কোথাও তার চেয়ে বেশি।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কমলাপুর বিআরটিসি বাসডিপো, কমলাপুর রেলওয়ে কলোনি, শাহজাহানপুর বস্তি ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকার ৮০ শতাংশ পাত্রে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গাবতলী বাস টার্মিনাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মিরপুর-১২ নম্বর বিআরটিসি ডিপোর ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পাত্রে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। মেট্রোরেল প্রকল্প, মহাখালী কড়াই বস্তি, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এলাকার ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পাত্রে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, আমাদের জরিপ যেসব স্থানে লার্ভার পাওয়া গেছে তা নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। উভয় সিটি করপোরেশন এসব স্থানের লার্ভা ধ্বংসের ব্যবস্থা নিয়েছে। এখনো দুই সিটি করপোরেশন এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য কাজ করছে। ফলে আমরা মনে করছি না এডিস মশা হঠাৎ করে বেশি বেড়ে যাবে। এডিস মশা আগে যে রকম ছিল, হয়তো তেমনই থাকবে। এ কারণে ডেঙ্গু রোগী হঠাৎ করে বেশি বেড়ে যাবে তা মনে করছি না।



« (পূর্বের সংবাদ)



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*