Main Menu

চকরিয়া-পেকুয়ার ৩০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষেরর বাম্পার ফলন

জিয়াউল হক জিয়া,চকরিয়াঃ

সরিষা ফুলের হলুদ রংনে চেয়ে গেছে চাষকৃত আবাদি মাঠ।সরিষা ফুলের গন্ধ না ছড়ালো ক্ষেতের দৃশ্যে মন কেড়ে নেন প্রকৃতিপ্রেমী লোকজনের।এমন দৃশ্য দেখা যায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।চলিত বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশানুরুপ ভাল ফলনের প্রত্যাশায় চাষিরা।

চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর চকরিয়া উপজেলায় ১৭০ হেক্টর ও পেকুয়া উপজেলায় ১৩০ হেক্টর জমিতে বারী-১৪ ও বীনা-৯, জাতের সরিষার চাষ হয়েছে। চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল, কোণাখালী, চিরিংগা ও নতুন করে উপকুলীয় বদরখালী ইউনিয়ন ও পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা, শিলখালী ও টৈটং ইউনিয়নে এসব সরিষার ক্ষেত করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্য চাষকৃত সরিষা ঘরে তুলবেন কৃষকরা এমনটা জানান কৃষি বিভাগ। এছাড়াও আবহাওয়া ভাল থাকায় আশাতীত ফলন উঠবে আশাবাদি কৃষি কর্মকর্তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, চকরিয়ার সাহারবিল রামপুর ষ্টেশন পরে সড়কের উত্তর পাশে লাগোয়া সরিষার চাষ। এছাড়া উপজেলার উপকুলীয় ইউনিয়ন বদরখালীতে প্রায় সাড়ে ৩ যুগ পর প্রথমবারে মত পরীক্ষামূলকভাবে ১০ একর জমিতে নতুন করে আবাদ করা হয়েছে সরিষা ক্ষেতের চাষ। ১৪ জন কৃষককে কারিগরি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে এ চাষ করা হচ্ছে।
এছাড়াও কোনাখালী ও চিরিংগা ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকায় সরিষার আবাদ হয়েছে।

অপরদিকে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী, টৈটং ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের প্রায় ১৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের ক্ষেত করা হয়েছে। এছাড়া আরো বিভিন্ন ইউনিয়নে সরিষার আবাদ হয়ে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।

পেকুয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা তপন কুমার রায় বলেন, পেকুয়াতে নানান সবজি চাষের পাশাপাশি সরিষা চাষও হয়েছে। এবছর টৈটং, শিলখালী ও পেকুয়া সদর মেহেরনামা ইউনিয়ন ছাড়াও আরো বিভিন্ন ইউনিয়নে সরিষা চাষ করেছে কৃষকরা। তবে সরিষা ক্ষেতের প্রতি আগ্রহ ও উৎসাহ বাড়াতে কৃষকদেরকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাগণকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, কৃষকদের চাষকৃত সরিষা ক্ষেতে কোন সমস্যা হলে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ সহ আগামী মৌসুমে চাষের পরিমাণ বাড়াতে নতুন চাষী তৈরী করতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলেও আশাবাদি এ কর্মকর্তা।

চকরিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস এম নাসিম হোসেন বলেন, মুলত: চকরিয়া হচ্ছে কৃষি প্রধান একটি উপজেলা। এখানে নানান জাতের ক্ষেত হয়। সুতরাং এসব ক্ষেতের পাশাপাশি সরিষা চাষও করা হয়েছে।তাছাড়া সরিষা চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে তাদেরকে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কৃষকদেরকে সরিষা ক্ষেতের প্রতি সার্বক্ষণিক যেন রাখেন এবং আগামীতে আরো চাষী বা সরিষা ক্ষেতের চাষ হয় সেদিকে খেয়াল রেখে কাজ করতে। মৌসুম অনুপাতে আবহাওয়া ভাল থাকায় এবছর সরিষার বাম্পার ফলন আশাতিত হবে।
বারি-১৪ জাতের সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরণেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদি এ কর্মকর্তা।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*