Main Menu

চকরিয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি জবরদখল চেষ্টা ও মালামাল লুটের অভিযোগ

 

মনির আহমদ:চকরিয়ার রিংভং ও চরন্দ্বীপ মৌজার চিংড়ী জোন এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চিংড়ী ও কৃষি জমি জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্রয় ও লীজ সুত্রে আলহাজ্ব রশীদ আহমদ চৌধুরী গং এর
মালিকানাধীন এ জমিগুলো দখলে ব্যর্থ হয়ে দফায় দফায় হামলা করে যাচ্ছে একদল চিহ্নীত দাগী সন্ত্রাসী। ডাকাতি ও জবর দখলের ভয়ে রাত জেগে পাহারা বসিয়ে মৎস্য ঘের ও ক্ষেত খামার রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে চাষীরা।

জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার রিংভং ও চরন্দ্বীপ মৌজার আরএস ২০৯, ২১৩ এবং বিএস ৪ নং খতিয়ানের আন্দর ৮৬-৮৭ ইংরেজীর সরকারী লীজ প্রাপ্ত এসটি মামলা নং ৮২,৪১,৫৩,০৬ এর ১২৩ একর এবং ২০০৬-৭ এর এসটি ২৩৩ নং মামালার ১০ একর লীজ সুত্রে এবং ওয়াক্ফ স্টেটের মতোয়াল্লী হতে বিএস ৪ নং খতিয়ানের বিএস দাগ হতে হারাহারি মতে বাট্টা ২/৩৫, ২/৩৬, ০৯, ০২, ১/৪৩, ০৬, ১২/৪২, ও ০৫ দাগের অন্দর ক্রয় সুত্রে দলিল নং ১৫৬৬ তাং ৩-৫-১৯৯৯ এ ৫০ একর এবং মতোয়াল্লীর রেজি: নং ৫৫ (০৪) ৯৯ তাং ১২-৪-১৯৯৯ এর ৪৪ একর মৎস্য ও কৃষি জমি ক্রয় ও লীজ সুত্রে আলহাজ্ব রশীদ আহমদ চৌধুরী গং ও ফাসিয়াখালী আদর্শ মৎস্য চাষ উন্নয়ন সমবায় সমিতির পক্ষে রশীদ আহমদ গং মালিক হন। সরকার হতে এসটি মামলা মোতাবেক রেজিষ্ট্রারী লীজ নিয়ে এ জমি সমুহ ২০২৩ ইং সাল পর্যন্ত নবায়ন রয়েছে। কিন্তু এইসব দাগের জমি গুলো বনবিভাগের জমি দাবী করে আসছিলেন স্থানীয় ফাসিয়াখালী বনবিভাগ ও কতিপয় ভিলেজার। তারা স্থানীয় চিহ্নীত অস্ত্রধারী ফাসিয়াখালী ৯ নং ওয়ার্ডের মৃত ফজল করিমের পুত্র সাজাপ্রাপ্ত আসামী জামাল উদ্দিন ও তার ভাই দেলোয়ার হোছন, জামাল উদ্দীনের পুত্র নজরুল ইসলাম, মৃত জালাল আহমদের পুত্র কামাল উদ্দীন, জাফর বৈদ্যের পুত্র বেলাল উদ্দীন এবং মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর চালিয়াতলী গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর পুত্র তালিকাভুক্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও অস্ত্র কারিগর হাবিবুল্লাহ লেদুকে ভাড়া করে সংঘবদ্ধ হয়ে রশীদ আহমদ গং এর চিংড়ী ও কৃষি জমি জবর দখলের চেষ্টা করে আসছিল। রাতের আঁধারে ফাঁকা গুলি বর্ষন করে অনধিকার প্রবেশ করে স্থানীয় মোহাং কালুর পুত্র চিংড়ী ঘেরের ম্যানেজার বেলাল উদ্দীনকে মারধর করে মাছ সহ একটি পাম্প মেশিন নিয়ে পালিয়ে যায়। এবং বার বার জমি গুলো জবর দখলের চেষ্টা করে আসছিল। এর ফলে তাদের বিরোদ্ধে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে রশীদ আহমদ চৌধুরী গং বাদী হয়ে অপর ১৭০/৯৯ নং সহ একাধিক মামলা দায়ের করলে উক্ত মামলা চলমান রয়েছে। এমতবস্থায় সন্ত্রাসী জামাল উদ্দীন ও কামাল গং এর বার বার হামলা ও উৎপাতের কারনে ফের রশীদ আহমদ চৌধুরী গং বাদী হয়ে মিচ মামলা নং ১৮/২০১০ দায়ের করেন। মামলায় বন বিভাগের রেঞ্জার ও বিট কর্মকর্তা এবং ১৮ জন বন জায়গীরদারকে আসামী করে মামলাটি করেন রশীদ আহমদ চৌধুরী গং। একই দিনে বিজ্ঞ জেলা সহকারী জজ শফিউল আজম দীর্ঘ শুনানী শেষে বিবাদী গনের উপর শোকজ ইস্যু করেন এবং সাথে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়ে বিবাদীগনকে জমিতে যেতে বারন করেন। এর পর থেকে ওই স্থানে রশীদ আহমদ চৌধুরী গং একটি পাকা মসজিদ তৈরী করার চেষ্টা করলে বিগত সরকারের সাংসদ মোহাং ইলিয়াছ ওই স্থানে একটি মসজিদ তৈরী পুর্বক আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করে মসজিদ নির্মান করে শান্তিপুর্নভাবে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি সন্ত্রাসী জামাল ও কামাল গং বিভিন্ন স্থান থেকে পলাতক দাগী অস্ত্রধারীদের জড়ো করে ফের সংঘবদ্ধ হয়ে চুরি, ডাকাতি ও জবর দখলে মেতে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় উক্ত স্থানে আরো একটি মসজিদ নির্মানের কথা বলে আবারো জমি জবর দখলের ইস্যু তৈরী করে প্রতিনিয়ত অস্ত্রধারীদের জড়ো করে সংঘবদ্ধ হয়ে চুরি, ডাকাতি ও জবর দখল চেষ্টায় মেতে উঠেছে। ফলে এ স্থানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সহ অনাকাঙ্খিত ঘটনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই এ ব্যাপারে সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আলহাজ্ব রশীদ আহমদ চৌধুরী গং।

 






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*