Main Menu

চকরিয়ার বদরখালীতে জমি অধিগ্রহনে ন্যায্যমূল্যের দাবীতে বিশাল মানববন্ধন

মনগড়া মৌজামুল্যে জমি অধিগ্রহণ করতে না দেয়ার ঘোষণা

জহিরুল ইসলাম/এম, রিদুয়ানুল হক, চকরিয়াঃ

চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে জমি অধিগ্রহনে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার দাবীতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ২টার সময় বদরখালী বাজারস্থ বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন; বর্তমানে বদরখালী ইউনিয়নে ৪০শতক পরিমানের(১ কাণি) জমি হস্তান্তর হচ্ছে ১ থেকে দেড় কোটি টাকা মূল্যে। কিন্তু বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের জন্য এই একই পরিমান জমি অধগ্রহন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৮লাখ টাকা।

বক্তরা বলেছেন জমির সঠিক মৌজা মূল্য নির্ধারণ করা না হলে তারা এক ইঞ্চি জমিও অধিগ্রহন করতে দিবেন না। এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনাও করেছেন।
এলাকাবাসি ও বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়; বদরখালী ইউনিয়নের পুরো জমি এই সমবায় সমিতির অধীনে। এ কারণে এই ইউনিয়নে সমবায় সমিতির অধীনে কোন জমি অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারেন না। বিশেষ কোন প্রয়োজনে সমবায় সমিতির পুষ্যদের মধ্যে জমি শুধু হস্তান্তর করা যায়। এখানকার জমি বেচাবিক্রি করতে না পারার কারণে চকরিয়া সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস জমির মৌজা মূল্য নির্ধারণে ভুল করে ৪০শতক জমির মূল্য ৮লাখ টাকা নির্ধারণ করে রেখেছে। কিন্তু বদরখালীতে বর্তমানে ৪০শতক পরিমানের জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে ১ কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা মূল্যে। মহেশখালীতে বাস্তবায়নাধীন গভীর সমুদ্র বন্দর ও মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর সংযোগ সড়ক ও রেল লাইন নির্মাণের জন্য বদরখালী ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৫শত একর জমি অধিগ্রহনের কাজ চলছে। এ পরিমানের জমি অধিগ্রহনে বদরখালী ইউনিয়নে অনেক বসতঘর, দোকানপাট, বাজার, বহুতল ভবন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার জমি অধিগ্রহনের কবলে পড়েছে।

এ ছাড়াও অনেক ধানি জমি, লবণের জমি ও চিংড়ি ঘেরের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন; চকরিয়া সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস ৪০শতক পরিমান জমির গড় মৌজা মূল্য নির্ধারণ করেছেন মাত্র ৮লাখ টাকা। অথচ এই একই জমি স্থানীয়ভাবে হস্থান্তর (বিক্রির মত) হচ্ছে ১ কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা মূল্যে। এ ব্যাপারে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৮ জুলাই হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি আশরাফুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর দ্বৈত বেঞ্চ বদরখালী সমিতির জমির মৌজামূল্য নির্ধারণের বিষয়টি এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও তার কোন সুরহা হয়নি।

এ অবস্থায় চকরিয়া সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস কর্তৃক নির্ধারণ করা মনগড়া মৌজা মূল্যে জমি অধিগ্রহন করা হলে বদরখালীর মানুষ চরম ক্ষতির শিকার হবেন। তারা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সভাপতি হাজী নুরুল আলম সিকদার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন জনি, ইউপি চেয়ারম্যানা খাইরুল বশর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন এমএ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, এসএম আক্তার কামাল, সাবেক সভাপতি মৌলানা আবদুল মান্নান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জয়নাল আবেদীন খান, সাবেক সভাপতি রশিদ আহমদ এমএ, সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরে হাছাইন আরিফ, সাবেক পরিচালক মাষ্টার শাহাব উদ্দিন, পরিচালক কুতুব উদ্দিন প্রমুখ। বদরখালীর এই মানববন্ধনে এলাকার শতশত মানুষ অংশ নেন। #






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*