Main Menu

গ্রেফতারী পরোয়ানা বনাম সাঈদীর বিবৃতি

বিবিসিএকাত্তর ডেস্কঃ

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী’র রিরুদ্ধে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ মোঃ আসাদাজ্জামান নূর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। ঢাকার পল্টন মডেল থানার ২০১৪ সালের ১২(৫)/২০১৪ নম্বর মামলায় ফজলুল করিম সাঈদী’র বিরুদ্ধে এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ফৌজদারী কার্যবিধি’র ৭৫ ধারা মতে এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার ধারা সমুহ হলো-পেনাল কোড: ৪২০, ৪০৬, ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮, ১৭১, ১০৯ এবং ৩৪। আগ্নেয়াস্ত্রের জাল লাইসেন্স দিয়ে পল্টন এলাকার একটি অস্ত্রের দোকান থেকে অস্ত্র কিনার সময় ঢাকার পল্টন থানা পুলিশ সেসময় ফজলুল করিম সাঈদী সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করা করেছিল। এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ইতিমধ্যে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছেন এবং মামলাটি আমলী আদালত থেকে বিচারের জন্য বিচারিক আদালতে ট্রান্সফার করা হয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে গত ১৫ জুন প্রেরিত ৯২৪ নম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় বলা হয়েছে-“ফজলুল করিম সাঈদী, পিতা-মৃত ইসহাক আহম্মদ, সাং-হাল কাকরা, ২ নম্বর ওয়ার্ড, চকরিয়া পৌরসভা (সাঈদীর বাড়ী), থানা-চকরিয়া, জেলা-কক্সবাজার নিবাসীর প্রতি-এতদ্ধারা আদেশ করা যাইতেছে যে, আসামিকে ধরিয়া আমার নিকটে উপস্থিত করিবেন। ইহাতে ত্রুটি নাহয়।”

এবিষয়ে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী বলেছেন-গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, সেটা সঠিক। তবে তিনি ৪/৫ দিন আগে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন। আগাম জামিনের সহিমুহুরী নকলের কপি তিনি সংগ্রহ করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে সরবরাহ করবেন বলে জানান। তিনি আগে এ মামলায় চার্জশীট দাখিলের পূর্ব পর্যন্ত হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনে ছিলেন। চার্জশীট হওয়ার পর আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি পূণরায় আগাম জামিন নেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেছেন-আদালতে মামলার চার্জশীট দাখিলের পর, সে মামলায় আগাম জামিন নেয়ার কোন আইন এদেশে নেই। ফজলুল করিম সাঈদী’র বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেননা বলে জানিয়েছেন। চকরিয়া মডেল থানার ওসি মোঃ হাবিবুর রহমানের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে, তাঁর থানায় ফজলুল করিম সাঈদী’র বিরুদ্ধে কোন ওয়ারেন্ট আসেনি বলে জানান।

সাঈদীর বিবৃতি

বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত “চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদী’র বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাঃ সাঈদী বলেছেন জামিনে আছি” শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটি বানোয়াট, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। সংবাদে ঢাকা পল্টন থানার যে মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেই মামলায় আমি বর্তমানে জামিনে আছি। জামিনে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা থাকতে পারে। মূল বিষয় হচ্ছে চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনে আমাকে সর্বস্তরের জনতা বিপুল ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছে। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমি জনগণের ভালবাসা আর সমর্থনের মূল্য দেয়ার জন্য দিন-রাত তাদের সুখে-দু:খে ভাগিদার হচ্ছি। তাছাড়া গত কয়েকদিন আগে আমি যখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করি তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে এলাকায় এসে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শ মোতাবেক আমি আজ ৭/৮ দিন ধরে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের সেবা ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি তখনই আমার বিরুদ্ধ ষড়যন্ত্র শুরু হয়। বিশেষ করে আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার নিজের দল আওয়ামীলীগের কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আর অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের দিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করিয়ে আমাকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি এধরণের মিথ্যা সংবাদে বিভ্রান্ত না হতে সকলকে অনুরোধ করছি। পাশাপাশি সাংবাদিক ভাইদের সঠিক তথ্য পরিবেশন করার জন্যও অনুরোধ করছি।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*