Main Menu

গুরুদাসপুর রোজী মোজাম্মেল মহিলা অর্নাস কলেজ বিনা বেতনে নারী উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে চলনবিলের নারীরা !

জালাল উদ্দিন,গুরুদাসপুর (নাটোর).
স্নাতক পাস কোর্স এবং স্নাতক সম্মান কোর্সে শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নসহ স্বল্প খরচে আবাসিক সুবিধা প্রধান করা হচ্ছে। মূলত চলনবিলের পিছিয়ে পরা অবহেলিত নারীদের কথা বিবেচনা করেই নাটোরের গুরুদাসপুর রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব সুবিধা প্রদান করছে।
কলেজ সূত্র জানিয়েছে- চলনবিলের পিছিয়ে পরা নারীদের কথা বিবেচনা করে ১৯৯৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের যাত্রা শুরুর পর ২০০১ সালে স্নাতক পাসকোর্স এবং ২০১৫ সালে ৫টি বিষয়ে স্নাতক সম্মান কোর্স চালু করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে- চলনবিলের পিছিয়ে পরা অবহেলিত নারীরা বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে লেখাপড়া করছেন। এছাড়া কলেজ চলাকালীন সময়ে হাজারো বই সমৃদ্ধ লাইব্রেরীতে বই পড়া, বিজ্ঞানাগাড়ে বিজ্ঞান বিষয়ে চর্চা করলেও একাডেমিক ভবন আর কম্পিউটার ল্যাবের সংকট রয়েছে। অথচ এক দশক আগেও চলনবিল বেষ্টিত এই উপজেলায় নারী উচ্চ শিক্ষার কোন সুযোগ ছিলনা। সেসময় অবহেলিত চলনবিলবাসীর মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সুযোগ-ই ছিলো ক্ষিণ। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার চিন্তা ছিলো শুধুই স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিয়ে গুরুদাসপুর রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজ।
কলেজটিতে বর্তমানে ৬৫০জন শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে। চলনবিলের সিংড়ার বিলদহর, চামটা, নুরপুর, তাড়াশের কুন্দইল, ধামাইচ, নাদোসৈয়দপুর, বারুহাস, বড়াইগ্রামের চামটা, লক্ষীকোল, মারিয়াসহ তিনটি জেলার ছাত্রীরা এখানে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।

জানতে চাইলে সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্রী রওশন আরা ও স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সমাপ্তি জানান, উপজেলা পর্যায় বিনা খরচে মনোরম পরিবেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। তারা আরো জানান বাবা কৃষক, কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শহরের গিয়ে লেখা পড়া করা আমাদের জন্য দু:সাধ্য তাই রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজটিকে বেছে নিয়েছি উচ্চ শিক্ষার সিড়ি হিসাবে। বর্তমানে নারী শিক্ষা প্রসারে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্তে¡ও প্রতিষ্ঠার ২২ বছরেও জাতীয়করণ করা হয়নি উপজেলা সদরের একমাত্র মহিলা অনার্স কলেজটি।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মায়া রানী চক্রবর্ত্তী জানালেন, শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতায় কলেজটির অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। ১৯৯৮ সালে আ.লীগের সরকার গঠন ও বর্তমান সাংসদ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করেন। কলেজটি যখন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তখন চলনবিলে যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত ছিলনা। অভিভাবকরা তাঁদের মেয়েদের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উচ্চ শিক্ষার জন্য উপজেলা সদরের কলেজে পড়ালেখার জন্য পাঠাতে অনীহা জানাতেন। ফলে নারী শিক্ষা পিছিয়ে ছিল এ চলনবিল এলাকার মেয়েরা। মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার পর চলনবিল এলাকার প্রায় সকল অভিভাবকরা তাঁদের মেয়েদের এখন উচ্চ শিক্ষার জন্য কলেজে পাঠাচ্ছেন। বাড়ছে নারী শিক্ষার হার।

কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা বলেন, কাঠামোগত দৈন্যতা থাকার পরেও ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিনা খরচে শিক্ষার্থীদেও নিয়মিত পাঠদানসহ আবাসিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই কলেজের ছাত্রীদের সেরা হওয়ার গৌরব রয়েছে অনেক। উপজেলা পর্যায়ে তথা চলনবিলের অবহেলিত জনগোষ্ঠির নারী উচ্চ শিক্ষার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরেও সরকারীভাবে একাডেমিক ভবন বা কম্পিউটার ল্যাব দেওয়া হয়নি। আধুনিক এসব সুবিধাসহ কলেজটি জাতীয়করণের দাবি তুলেছেন এ অঞ্চলের মানুষ।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*