Main Menu

গুরুদাসপুরে নৌকা বিক্রির ধুম

জালাল উদ্দিন গুরুদাসপুর (নাটোর)
চলনবিলেন ঐতিহ্য নৌকা। বর্ষার দিনে নদী পারের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাহণ এই নৌকা। চারিদিকে এখন পানি আর পানি। নদ-নদী ভড়ে উঠছে পানিতে। নদ-নদী ছাপিয়ে পানি পড়ছে বিল গুলোতে। তাই বর্ষা সামনে রেখে এই অঞ্চলে শুরু হয়েছে নৌকা বিক্রি ও তৈরীর ধুম। তাই বর্ষার আগমন উপলক্ষে ব্যস্ত সময় পার করছেন গুরুদাসপুরের নৌকা তৈরীর কারিগররা। তাদের মনে এখন আনন্দ উল্লাস বিরাজ করছে। সারাবছর তারা বর্ষার আগমনের অপেক্ষায় থাকে। এই সময়ে নৌকা তৈরীর জন্য তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কাঠের বেপারীরাও বিভিন্ন ধরনের নতুন কাঠ ক্রয় করছে নৌকা তৈরীর জন্য।

গতকাল নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় হাটে গিয়ে দেখা যায় নৌকা বিক্রির ধুম। বিক্রি হচ্ছে ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের নৌকা। এসব নৌকা মেহগনী, শিমুল, কাঠাল, কালেক্টর, কড়ই, গোবরা জিবা, আম, কদম,বাটুলসহ বিভিন্ন ধরনের কাঠের। চলনবিলাঞ্চলের সবচেয়ে নৌকার বড় হাট নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড়ের হাট।

কাঠের বেপারী আলহাজ্ব মো.মফিজ উদ্দিন খুদু জানান, বছরের অন্য মাস গুলো ব্যবসা তেমন হয়না। কারিগররাও পরিবার নিয়ে দুঃখে কষ্টে দিনপার করে। এখন বর্ষার আগমনে সব কারখানা গুলোতে চলছে নৌকা তৈরির কাজ। আমরা বিভিন্ন বাগান থেকে গাছ কিনে এনে মিলে সাইজ করি। এখন আমার কারখানায় প্রতিদিন ২০-২৫টি করে নৌকা তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি নৌকা বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে,২০০০ থেকে ৫০০০ হাজার পর্যন্ত। ছোট নৌকা তৈরির জন্য কারিগরদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় ৪০০ থেকে-৬০০ টাকা। আর মাঝাড়ি ও বড় নৌকা তৈরীর জন্য দেওয়া হয় ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা।

গুরুদাসপুরে সপ্তাহের প্রত্যেক শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে। হাটের দুদিন আমাদের নৌকা বিক্রি বেশি হয়। তাছারাও কারখানা থেকে প্রতিদিন ৮-১০ টা করে বিক্রি হচ্ছে। ক্রয় করতে আসছেন পাশ^বর্তী উপজেলার লোকজন। মূলত চলনবিলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আমরা বেশি ক্রেতা পাই। যেমন, বিলশা, কুন্দইল, রুহাই, তাড়াশ, কুন্দাইল, তালম, সিরাজগঞ্জ, সিংড়া, পানলি, বিলহরিবাড়ী, হরদমা, সাবগাড়ী, বিলদহরসহ আরও অনেক এলাকা।

নৌকা তৈরির কারিগর পরিতোষ সরকার বলেন, আমরা বর্ষা মৌসুমের অপেক্ষায় থাকি। কেননা বর্ষা মৌসুমের সময় আমাদের কাজের অনেক চাপ থাকে। প্রতিদিন গড়ে ৩-৫ টা করে নৌকা তৈরি করতে পারি। পারিশ্রমিক ও ভালো। একটা নৌকা তৈরি করলে আমরা ৪০০-৬০০ টাকা করে পাই।
চাঁচকৈড় হাটে চলনবিল থেকে নৌকা কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রত্যেক বর্ষাতেই আমরা চাঁচকৈড় হাটে নৌকা কিনতে আসি। এখান থেকে নৌকা ক্রয় করে নিয়ে যাই। বর্ষা মৌসুমে আমরা এই নৌকা দিয়ে মাছ শিকার থেকে শুরু করে পারাপার হই। এখানকার নৌকা গুলো অনেক ভাল এবং মজবুত। তাই এখান থেকে নৌকা ক্রয় করি।#






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*