Main Menu

গরু-ছাগলের চামড়া কি এখন উচ্ছিষ্ট!!!

বিবিসিএকাত্তর ডেস্কঃ
জানি না, কেন গরু-ছাগলের চামড়া বর্তমানে কেউ উচ্চ দামে কিনতে চায় না। ছোট কাল থেকে দেখে আসছি প্রতিটি গরুর চামড়া দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আর ছাগলের চামড়া তিন থেকে পাঁচশ টাকা। কিন্তু ২/৩ বছর ধরে এই চামড়া কেউ কিনতে চায় না। কিনলেও সর্বোচ্চ দুই থেকে তিনশ টাকা আর ছাগলের চামড়া ফ্রি। জনগণের একটি প্রশ্ন- গরু-ছাগলের চামড়া কি এখন উচ্ছিষ্ট!!!

জানা যায়, ২/৩ বছর আগে কোরবানীর পশুর চামড়া কেনার জন্য আড়তদাররা গ্রামে গ্রামে নিয়োগ দিতেন দালাল। দালালরা গ্রাম থেকে চামড়া সংগ্রহ করে নিয়ে আসতো শহরে। আর এক যুগ পর কোরবানীর পশুর সেই চামড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্ছিষ্ট। কিনতেই চায় না কেউ। এক যুগ আগের সেই একহাজার টাকার চামড়া এবার ঈদে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০-২০০ টাকায়! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এবার সিলেট নগরীতে চামড়ার কয়েকটি অস্থায়ী হাট ঘুরে বিবিসিএকাত্তর প্রতিনিধির চোখে ধরা পড়ে হাজার টাকার চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ২৫ টাকায়।

ঢাকার ট্যানারি মালিকরা আগের টাকাই আটকে রেখেছেন এমন অজুহাত দেখিয়ে সিলেটের আড়তদাররা ন্যায্য মূল্য দিতে চাচ্ছেন না চামড়ার। সিন্ডিকেট করে পানির দামে কিনছেন চামড়া।

আজ (সোমবার) বিকেলে নগরীর আম্বরখানায় আমাদের প্রতিনিধি ঘুরে দেখেন যে, বড় বাজার থেকে গরুর দুটি চামড়া নিয়ে এসেছেন জনৈক ব্যক্তি। দেড় লাখ টাকা দামের গরু দুটির চামড়ার দাম শুনে চোখ কপালে ওঠে মালিকের। মৌসুমী ব্যবসায়ীর এক দাম, প্রতি পিস ২৫ টাকা। শেষ পর্যন্ত উপায়ান্তর না পেয়ে ৫০ টাকায় দুইপিস চামড়া বিক্রি করে বাসার পথে রওয়ানা দেন ওই ব্যক্তি।

সিলেট নগরীর কোরবানীর পশুর চামড়ার অস্থায়ী হাটের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাট বসে রেজিস্ট্রারি মাঠে। এবারও হাট বসেছে। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন নিয়ে আসছেন চামড়া। ২৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে একেকটি চামড়া।

চামড়ার ক্রেতারা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই ঢাকার ট্যানারি মালিকরা তাদের টাকা আটকে রেখেছেন। চামড়া নিয়ে টাকা দিতে চান না। পুরনো পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় তারা এবারও চামড়া কিনছেন। কিন্তু ঢাকায় টাকা আটকে রাখায় তারা নামমাত্র মূল্যে চামড়া কিনতে হচ্ছে।

তবে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চামড়া ব্যবসায়ীদের এই অজুহাত মিথ্যা ও সাজানো। ঢাকার ট্যানারি মালিকদের সাথে যোগসাজশ করে তারা সারাদেশে নামমাত্র মূল্যে চামড়া সংগ্রহ করছেন। পরে ওই চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে ঠিকই তারা ট্যানারি মালিকদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করে থাকেন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*