Main Menu

কোনাখালীর দূর্ণীতিবাজ চেয়ারম্যান দিদারের বিরুদ্ধে মনির মেম্বারের লিখিত অভিযোগ

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের দূর্ণীতিবাজ চেয়ারম্যান দিদারের বিরুদ্ধে মনির মেম্বারের লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। কোনাখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডস্থ স্লোইস গেটের পার্শে দীর্ঘদিন যাবৎ বসত বাড়ি ও কাচা ঘর নির্মান করে ছোট্ট একটি চা-দোকান দিয়ে ভোগ দখলে আছেন স্থানীয় গরীব কৃষক নুরুল আলম। কিছু দিন আগে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা দোকান ঘরটি আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

ইতোমধ্যে দুই দিন আগে স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার কোনাখালী ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি জহিরের নেতৃত্বে ৫-৭ জন লোক উক্ত স্থানে ঘর নির্মান করতে আসলে স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির উদ্দিন বাধা প্রদান করে, মেম্বার জহির লোক জন নিয়ে চলে যায়।

 

পরের দিন ৫ মে’১৯ তারিখ মেম্বার জহির লোক জন নিয়ে পুনরায় ঘর নির্মাণ করতে আসেন এবং বলেন, আমাদেরকে কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক পাঠিয়েছেন, এই ঘর ওনি নির্মান করাচ্ছেন। এই কথা বলতে না বলতে বেলা ১১টার সময় চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার লোকজন নিয়ে উক্ত স্থানে চলে আসেন। আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এটি ২ নং খতিয়ানের জমি, এটির মালিক চেয়ারম্যান, সুতরাং এখানে বেশি বাড়াবাড়ি করলে পুরুত্যা খালীর ওসমানের পরিণতি হবে।(ওসমান কে সম্প্রতি হত্যা করা হয়) উপরোক্ত বক্তব্যটি ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার মোঃ মনির উদ্দিনের।

মেম্বার মনির আরও বলেন, চেয়ারম্যান দিদার বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করে খেয়ে ফেলেছেন, গরীব মানুষের সহায় সম্বল কেড়ে নিয়ে পথে বসাচ্ছেন, আমি এগুলোর প্রতিবাদ করাতে ওনি আমার উপর ক্ষেপে গিয়ে আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি প্রদান করে যাচ্ছেন।

কোনাখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমের সঙ্গে কথা বলে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়।

মেম্বার মনির আরও অভিযোগ করে বলেন, এই স্লোইস গেইট টি ২০১৭ সালে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম এমএ (বর্তমান সাংসদ) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম কে সভাপতি ও আমাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্যের পরিচালনা কমিটি করে পরিচালনার দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান দিদার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিএনপি নেতা জহির মেম্বার কে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানানো হয়।

এদিকে মেম্বার মনির আহমদ লিখিতভাবে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ আকারে দরখাস্ত দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়- গত ১৮-১৯ অর্থ বছরে এলজিএসপি ৩ নং ওয়ার্ড হতে কোনাখালী দিয়ারপাড়া নুর আহমদের বাড়ি হতে মনছুরের বাড়ি পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ২,৫০, ০০০০/- টাকার প্রকল্পের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ কাজ করে বাকী কাজ এখনো হয় নি। এবিষয়ে চেয়ারম্যান দিদারের কাছে পরামর্শ দিতে গেলে তিনি আমাকে এবিষয়ে নাক না গলানোর জন্য সরাসরি বলে দেন। মেম্বার মনির বলেন- এব্যাপারে আমি প্রতিবাদ করায় আমার সরকারীভাবে প্রাপ্ত ভাতা ২০১৯ সাল হতে বন্ধ করে রাখেন।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, পরিষদের সম্মানী ভাতা এ পর্যন্ত ১৮০০০/- প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ভাতার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান দিদার কালক্ষেপন করতে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড হতে পরিচালনাকৃত উপজেলা থেকে প্রদানকৃত ৩ নং ওয়ার্ড সংলগ্ন ৬৫ নং ফোল্ডারের ৪ নং স্লোইচ গেইট দেখাশোনা ও তদারকির জন্য উপজেলা হতে ৬ জনের কমিটি গঠন করে। যাহার মধ্যে – ১। শামসুল আলম -সভাপতি, ২। মনির উদ্দিন- সাধারণ সম্পাদক ও অপর ৪ জনকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে চেয়ারম্যান দিদার এসে গেইটের হাতল নিয়ে ফেলে এবং তিনি নিজেই ১,৫০,০০০/- টাকার বিনিময়ে ৪ নং ওয়ার্ডের লোকদেরকে ইজারা প্রদান করে। গত ২০১৭ সালে চাষাবাদের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মেম্বার মনিরের নিজ খরচে সুইচ গেইটের দরজা বন্ধ করারর বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিল দাবি করলে, পরে ১% এর টাকা তুলে সেখান থেকে দিবে বলে আমাকে (মেম্বার মনিরকে) বুঝ দেয়। পরবর্তীতে পরিষদের সচিবের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো সঠিক উত্তর পাইনি।

মেম্বার মনির অভিযোগ করে বলেন- গত ৩ মার্চ’১৯ পরিষদের চেয়ারম্যান দিদার স্থানীয় চৌকিদার আব্দুল নবী মারফত আমাকে পরিষদে না ঢোকার জন্য হুমকি দেয় এবং আমার কোনো ধরনের বিচারিক কাজ কর্মে চৌকিদারকে না যাওয়ার জন্য বরণ করেন।

চেয়ারম্যান দিদারের বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ডের বিষয়ে প্রতিবাদ করার কারণে মনির মেম্বারকে হুমকি প্রদানসহ এলাকার উন্নয়নের কোনো কাজে কথা না বলার জন্য বারণ করে। এমনকি চেয়ারম্যানের লালিত সন্ত্রাসীবাহিনী কর্তৃক আমাকে অপহরণ করে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদর্শন করে। বর্তমানে মেম্বার মনিরের জান, মাল ও নিরাপত্তার অভাব অনুভব করছেন বলে মিডিয়া কর্মীদের কাছে তথ্য প্রমাণসহ তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*