Main Menu

আবরারকে আবরারকে হত্যার আগে মদ খেয়েছিলো খুনিরা: ছাত্রলীগ

বিবিসিএকাত্তর ডেস্কঃ বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদের খুনিরা হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে মদ পান করে নিয়েছিলো।তারপর ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড ঘটায়। স্বয়ং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।বলা হয়, অভিযুক্ত নেতাকর্মীরা খুনের ঘটনা ঘটানোর সময় মদ্যপ বা মাতাল ছিলো।তবে, ভিডিও ফুটেজে তাদেরকে মোটেও মাতাল মনে হয়নি।বরং এত বড় একটা খুনের ঘটনার পরও তাদেরকে শান্ত-স্বাভাবিক থাকতে দেখা গেছে।টর্চার সেলের দরোজা-জানালা লাগিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়, যার কারণে বাইরে থেকেও নির্যাতনের শিকার আবরারের আর্ত চিৎকার শোনা যায়নি বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।এছাড়াও এ ঘটনায়

হল প্রশাসনের ‘নির্লিপ্ত’ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনটি।

হলের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সদ্য স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর গত রোববার রাত ৮টার দিকে হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নেওয়া হয় তড়িত্ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (সপ্তদশ ব্যাচ) শিক্ষার্থী আবরারকে। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে হলে ফিরেছিলেন। এরপর রাত ২টার দিকে হলের সিঁড়িতে আবরারের লাশ পাওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে সোমবারই বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ সংগঠনটির ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ছাত্রলীগের তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ বলেন, দোষীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তারাও ঐ ভিডিও ফুটেজ বিবেচনায় নিয়েছেন। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই সোমবার এ ঘটনায় বুয়েটের ১১ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। ইয়াজ আল রিয়াদ বলেন, ‘সেদিন রাতে (রবিবার) যারা এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছে তারা পূজায় গিয়েছিলেন। সেখানে তারা মদ পান করেছিলেন। তারা সবাই মারাত্মক রকমের ড্রাঙ্ক ছিলেন।

নির্যাতনের সময় বাইরে থেকে কেউ চিত্কার-আর্তনাদ শোনার খবর জানা গেছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তখন এগুলো বাইরে যায় না। তখন দরজা-জানালা বন্ধ থাকে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’ নির্যাতনের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে আবরার মোবাইলে তার বন্ধু ও সহপাঠীদের সাহায্য চেয়ে সাড়া পাননি বলে এই ছাত্রলীগ নেতার দাবি। তিনি বলেন, ‘তদন্তে আরো পেয়েছি, ঐ রাতে বার্সেলোনার খেলা ছিল। পূজা থেকে এসে আবরারকে শারীরিক নির্যাতনের পর তারা বার্সেলোনার খেলা দেখতে চলে গিয়েছিলেন। আবরার এই ফাঁকে তার এক বন্ধুকে ফোন করে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তার বন্ধু তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেননি। সে আসলে এমন একটি অপমৃত্যুর মতো ঘটনা নাও ঘটতে পারত।’

সোমবার আবরার হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী প্রতিবাদ-সমালোচনার মুখে ইয়াজ আল রিয়াদের সঙ্গে সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারকে দিয়ে এই তদন্ত কমিটি করে ছাত্রলীগ। রিয়াদ বলেন, ‘কমিটি করার পর আমরা তত্ক্ষণাত্ সেখানে যাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বে যারা আছেন সবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি।’ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তার আগেই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।

হলের মধ্যে অন্য ছাত্রদের হাতে নির্যাতিত হয়ে আবরারের মৃত্যুর জন্য প্রশাসনের ‘দায়িত্বহীনতা ও নির্লিপ্ততাকেও’ দায়ী করেছেন ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘হলের মধ্যে রাতভর কয়েক ঘণ্টা ধরে একটা ছাত্রকে নির্যাতন করা হলেও প্রশাসন কেন বিষয়টি জানতে পারল না? হলের প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষকরা তাহলে কী দায়িত্ব পালন করলেন?






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*