Main Menu

আজ পবিত্র হজ্বঃ লাব্বাইক ধ্বনিতে প্রকম্পিত  আরাফাত ময়দান

মুহাম্মদ ওমর ফারুক, সৌদিআরবঃ
আজ ৯ জিলহজ্ব (শনিবার ) সূর্যোদয়ের পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ২০ লাখেরও বেশি মুসলমান সমবেত হচ্ছেন মক্কা থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে।
লাখ লাখ হাজীর কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা-শারিকালাকা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হবে এখানকার আকাশ-বাতাস।
 ভোর থেকে আরাফামুখী লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান। বিশ্ব মুসলিম সম্মিলনের এক সামিয়ানায় সমবেত হতে দলে দলে সবাই আরাফার দিকে ছুটছে আর লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত করে তুলছে আরাফাতের অলি-গলি ও পথে প্রান্তর। দুপুরের আগেই আরাফা ও পার্শ্ববর্তী নির্ধারিত সীমানায় হাজির হবে হজ পালনকারীরা।
এদিকে, হজের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে আরাফাতের ময়দান সংলগ্ন মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেওয়া হয়। এই মসজিদটি সেই স্থানে নির্মিত যেখানে দাঁড়িয়ে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)  বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। গভীর মনোযোগের সঙ্গে মসজিদে নামিরা থেকে দেয়া বয়ান বা খুৎবা শুনবেন হজযাত্রীরা।
হাজিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যাবে জাবালে রহমতসহ পুরো আরাফাতের সীমানা। মুসলিম উম্মাহর বিশাল জনসমুদ্রের মহাসম্মিলনে এবারের হজের খুতবা দিবেন শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আলে আশ-শায়খ।
পবিত্র হজ পালনে এবার বহিঃবিশ্ব থেকে জড়ো হয়েছে ২০ লাখেরও বেশি শিশু-কিশোর-যুবক নারী-পুরুষ। ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে এদের কেউ পথে কেউ ময়দানে। সৌদি আরব হজ কর্তৃপক্ষও নিয়েছে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যাতে হজ পালনকারীরা নিরাপদে সুশৃঙ্খলভাবে হজ সম্পাদন করতে পারবে।
বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহও আজ হজ পালনকারীদের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে তাদের জন্য দোয়া কামনা করছে। যাতে হজে গমনকারীরা সুন্দর নিরাপদে সুস্থভাবে হজ সম্পাদন করতে পারে।
লাখো হাজির কাণ্ঠে একই সঙ্গীত- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকালাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’।
দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, রহমত প্রাপ্তি ও নিজেদের গোনাহ মাফের জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে ফরিয়াদ জানাবে সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসলমান। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্যের অবতারণা হবে আজ আরাফাতের ময়দানে।
আজ ৯ জিলহজ্ব (শনিবার) সূর্যোদয়ের পর থেকে শুরু হয়েছে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়ার পালা। চলবে সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে এক মুহূর্তের জন্য হলেও হজ পালনকারীদের আসতে হবে এ ময়দানে। তবেই পরিপূর্ণ হবে হজ্ব।
দিনভর কান্নাকাটি দোয়া-ইসতেগফারের পর সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে রওয়ানা হবে মুজদালিফায়। যেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবে মুসলিম উম্মাহ। আর এর মাধ্যমেই পালিত হবে হজ।
দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, রহমত প্রাপ্তি ও নিজেদের গোনাহ মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে অশ্রুসিক্ত চোখে ফরিয়াদ জানাবে ধর্মপ্রাণ মুসলমান।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*