Main Menu

আগ্রাবাদে ফ্ল্যাট ‘বন্ধকের’ নামে অভিনব প্রতারণা আবু বক্করের

 

বিবিসি একাত্তর ডেস্কঃ   
ফ্ল্যাট বন্ধকের নামে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু বক্কর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই ভবন একাধিক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রাখার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাভ ও মূল টাকার কোনটাই পরিশোধ করছেন না ওই ব্যক্তি।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও কাগজপত্র দেখে  জানা যায়, ভবন বা ফ্ল্যাটের মালিক একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রেখেছেন। এককালীন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে কয়েক বছরের জন্য মালিকের কাছ থেকে ফ্ল্যাটটি বসবাসের জন্য নেন দ্বিতীয় পক্ষ। এ নিয়ে দলিল করা হয়। শর্ত থাকে, চুক্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় পক্ষ উপস্বত্ব হিসেবে ফ্ল্যাটের ভাড়া ভোগ করবেন এবং বৈদ্যুতিক, গ্যাস, ওয়াসা বিল ও সরকারী হোল্ডিং টেক্স, খাজনা প্রথম পক্ষ পরিশোধ করবেন । চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে মালিক এককালীন পাওয়া ওই পুরো অর্থ ব্যবহারকারীকে ফেরত দেবেন। এভাবে মালিক যেমন একসঙ্গে প্রয়োজনীয় অর্থ পান, তেমনি বন্ধক নেওয়া ব্যক্তি পরিষেবা বিল দেওয়া ছাড়া দ্বিতীয় পক্ষ উপস্বত্বে সকল সুবিধা ভোগ করবেন। মালিক অর্থ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা ফ্ল্যাটটি ছাড়েন না। সে ক্ষেত্রে নতুন চুক্তিও করা হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে।

কিন্তু এই পুরো বিষয়টিকে পুঁজি করে বর্তমানে একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বন্ধক দিয়ে সুবিশাল প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে চট্টগ্রামের উত্তর আগ্রবাদস্থ আগ্রাবাদস্থ পানওয়ালা পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দীক নামের এক প্রতারক। তার প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে এখন পথে বসার উপক্রম ।

ভুক্তভোগীরা জানান, লাভের টাকা তো দূরের কথা, মূল টাকাই ফেরত দিচ্ছেন না মালিক । বরং তিনি রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ান এবং প্রতারিতদের হুমকি ধমকি দেন । তারা বলেন, দলিল ঠিক থাকলেও একই রকম কাগজ রয়েছে একাধিক ব্যাক্তির কাছে। ফলে কোন কাজে আসছে না তাদের ওই দলিল। লাভের আশায় টাকা দিয়ে তারা এখন বিপদে পড়েছেন।

হাটহাজারীর সমিতির হাটস্থ এলাকার মোহাম্মদ জাহেদ নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, আমি ৬ লক্ষ টাকা দিয়েছি। কথা ছিল, দুটি ফ্ল্যাটের প্রতি ফ্ল্যাটের ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা প্রতিমাসে আমাকে দেওয়া হবে এবং যতদিন তিনি মূল টাকা দিতে পারবেন না, ততদিন নিয়মিত ওই ২০ হাজার টাকা আমি পাব। অথচ প্রথম দুই মাসে বিশ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা এবং তারপরের মাসে ১৫ হাজার টাকাসহ মোট ৫৫ হাজার টাকা দিয়েই এ পর্যন্ত আর কোন টাকা দেননি। টাকা চাইলে হুমকি ধমকি দেন।

আগ্রাবাদস্থ পানওয়ালা পাড়ার মোঃ হোসেন নামে আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, আমি ৭ লক্ষ টাকা দিয়েছি। কথা ছিল, মূল টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত  মাসে মাসে  দুইটি ফ্ল্যাটের ভাড়া আমাকে দেওয়া হবে। অথচ এখন লাভ তো দূরের কথা, মূল টাকাই দিচ্ছেন না।
একইভাবে কোতোয়ালি থানাস্থ এলাকার ছায়েদুল হক নামের এক ব্যক্তিও ৫ লক্ষ টাকা বক্করকে দিয়েছেন। তার বক্তব্যও প্রায় প্রথম দুইজনের মতোই।

ভুক্তভোগীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, ফ্ল্যাটটি বন্ধক দেওয়ার সময় ভবনটির নাম ছিল “বক্কর প্যালেস”।  পাওনাদারদের বোকা বানানোর জন্য ভবনটির নাম পরিবর্তন করে এখন করা হয়েছে “জাহান ম্যানসন”। এটিও প্রতারণা করে পার পাওয়ার আরেকটি কৌশল বলছেন প্রতারিতরা।

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বক্করের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কেউ আমার ফ্ল্যাট বন্ধক নেয়নি। তিনি ফ্ল্যাট বন্ধক দিয়েছেন এবং তার ডকুমেন্টস আমাদের হাতে রয়েছে এমন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলে, তিনি তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ডবলমুরিং থানায় একাধিকবার  অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করা হয় বলে ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়। থানা পুলিশও একাধিকবার মিমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মালিক টাকা দেওয়ার ব্যাপারে আন্তরিক না হওয়ায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে জানান প্রতারিতরা।

এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানার ওসির কাছে গেলে তিনি কর্তব্যরত এস,আই কাইছার হামিদের সাথে কথা বলতে বলেন, এস, আই কাইছার হামিদ বলেন, থানায় মামলা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে ।    






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*